নিলাম নিয়ে মণিরামপুরে মারপিট ছুরিকাঘাত

আপডেট: 09:25:08 13/10/2020



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ নিলামকে কেন্দ্র করে হামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলাম নয়ন ছুরির আঘাতে আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় আরো আহত হন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সন্দ্বীপ ঘোষ ও সবুজ কর নামে এক যুবক। ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে হামলাকারীরা উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমকেও লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। হামলার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ওই মাঠে নিলাম ডাকার কাজ করছিলেন।
নাজমা খানম জানান, বেলা ১১টার দিকে শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭টি গাছের নিলাম ডাকা শুরু করেন এসিল্যান্ড। নিলামে অংশ নিতে তার ব্যক্তিগত সহকারী নয়ন ও সবুজসহ ৫-৬ জন সেখানে যান। তারা নিলামে অংশ নিতে গেলে একদল যুবক তাদের বাধা দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে সন্দ্বীপ ঘোষসহ সেখানে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে পৌঁছুলে পেছন থেকে সন্দ্বীপ ঘোষের মাথায় আঘাত করে এক দল দুর্বৃত্ত। ওই সময় নয়ন ও সবুজ এগিয়ে এলে নয়নের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। মারপিটের শিকার হন সবুজ। ঘটনার প্রতিবাদ করলে তিনিও লাঞ্ছিত হন।
রাত সাড়ে আটটায় এই রিপোর্ট লেখার সময় ঘটনার ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাজমা খানম।
নাজমা খানম অভিযোগ করেন, এসিল্যান্ডের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে তাকে নিলাম বন্ধ রাখতে বলা হয়। সবকিছু উপেক্ষা করে তিনি নিলামের কাজ চালিয়ে যান।
এদিকে আহত নয়ন, সন্দ্বীপ ঘোষ ও সবুজকে দুপুরে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেলে নয়ন ও সন্দ্বীপ ঘোষকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।
এসিল্যান্ড খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, হামলার ঘটনা জানি না। উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন, তার লোকজনকে টেন্ডারে হাজির হতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি পুলিশের সহযোগিতায় তাদের আনার চেষ্টা করেছি। তারা আসেননি।
তিনি বলেন, ‘নাজমা খানম ফোন করে আমাকে টেন্ডার বন্ধ রাখতে বলেছেন। কিন্তু এই কাজের সভাপতি ইউএনও। টেন্ডার বন্ধ করতে হলে ইউএনও-এর লিখিত অনুমিত লাগবে। তার অনুমিত বাদে আমি কাজ বন্ধ রাখতে পারি না। বরং টেন্ডার বন্ধ রাখতে বলে উপজেলা চেয়ারম্যান সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে অপরাধ করেছেন।’
মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেননি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রজাতির ৩৭টি গাছের নিলাম কাজ শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এসিল্যান্ড খোরশেদ আলম চৌধুরী দুই লাখ ৭৫ হাজার ৩১৮ টাকা ভিত্তিদর ঘোষণা করেন। পরে পারখাজুরা এলাকার দীপংকর হালদার নামে একজন তিন লাখ ২৬ হাজার টাকায় নিলামে গাছগুলো কিনে নেন। এই ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট গণ্ডগোলে লিপ্ত দুই পক্ষই সরকারি দলের।

আরও পড়ুন