নীরা হৃদরোগে আক্রান্ত, এনজিওগ্রাম করা যায়নি

আপডেট: 02:03:10 19/10/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : একদিন পরেই ভোট। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন ছিল আজ। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা।
গণসংযোগকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন শাসক দল আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী। তাকে ভর্তি করা হয়েছে খুলনার বেসরকারি হৃদরোগ হাসপাতাল ফরটিস এসকর্টসে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল আছে। তবে এনজিওগ্রাম করার দরকার থাকলেও কিছু সমস্যার কারণে তা করা যায়নি।
রোববার বিকেলে নুরজাহান ইসলাম নীরা সদর উপজেলার ভেকুটিয়া এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন। ওই সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাকে সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন।  রাতেই তাকে খুলনায় পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকরা।
যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শওকত আলী বলেন, নীরার অবস্থা গুরুতর নয়।  তবে ৭২ ঘণ্টার আগে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। যশোরে থাকাকালে তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীরার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।  তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে অবস্থা গুরুতর হয়।  তার এনজিওগ্রাম করাতে হবে।  কিন্তু যশোরে ব্যবস্থা না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ডাক্তাররা খুলনায় পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেশি ও যশোর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা রাত পৌনে ১১টার দিকে সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘নীরার অবস্থা এখন মোটামুটি ভালো বলেই শুনেছি।’
নৌকার প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের সঙ্গে রাত ১১টায় সুবর্ণভূমির কথা হয়। তিনি প্রার্থীর ছেলের বরাত দিয়ে জানান, এনজিওগ্রাম করার দরকার থাকলেও তা করা যায়নি। ফরটিসের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, নীরার শরীরের অন্যান্য কিছু সমস্যার কারণে এই মুহূর্তে এনজিওগ্রাম করা যাচ্ছে না। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে জানান অ্যাডভোকেট মুকুল।
মঙ্গলবার যশোর সদর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নুরজাহান ইসলাম নীরা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ নূর-উন-নবী।  রোববার ছিল নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। এদিন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন।  করেছেন নির্বাচনী পথসভা, প্রচার মিছিল।  অসুস্থ হওয়ার আগে সারাদিন নির্বাচনী মাঠে ছিলেন নুরজাহান ইসলাম নীরাও।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ নূর-উন নবীও নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন শেষ দিন। যদিও আগের রাতে জেলা বিএনপি অফিস ও দলের প্রধান নেতাদের বাসভবনে গণহারে হামলা হয়। এসব হামলার জন্য সরকারি দল আশ্রিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, ত্রাস সৃষ্টির জন্য পুরনো কৌশলের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

রিপোর্টে নীরার পুরনো ছবি ব্যবহার করা হয়েছে

আরও পড়ুন