নেতার বিরুদ্ধে মানুষকে ফাঁসানোর অভিযোগ

আপডেট: 11:00:17 08/11/2019



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : পুলিশের সোর্স সেজে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাদকের পোটলা রেখে মোটা টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল শেখের বিরুদ্ধে। তিনি আগদিয়া গ্রামের মৃত ফজর শেখের ছেলে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এনামুল শেখ কয়েক বছর ধরেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আবার কখনো সাধারণ মানুষের বাড়িতে মাদকের পোটলা রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গেলে তাকে ছাড়িয়ে আনার নামে মোটা টাকা আদায় করেন।
আগদিয়া বাজারের সাইকেল গ্যারেজ মিস্ত্রি জাহাঙ্গীর সরদার (২৮) বলেন, ‘‘গত বুধবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনামুল শেখ খোশগল্প করার সময় কখন কীভাবে আমার গ্যারেজের মালামাল রাখা বাক্সের নিচে একটি ছোট কৌটার ভেতর গাঁজার পুরিয়া রেখে দেয়, তা বুঝতে পারিনি। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে বিছালী ক্যাম্প থেকে একজন পুলিশ এসে আমার কাছে মাদক রাখার কথা জানতে চায়। আমি ‘জানি না’ বলায় তিনি বাক্সের নিচে থেকে একটি কৌটা বের করেন; যার মধ্যে গাঁজা ছিল। পুলিশ আমাকে ক্যাম্পে নিয়ে যায়, পরে সদর থানায় চালান দেয়। ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী থানায় গিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে আনেন।’’
বাজারের আরেক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, ‘এনামুলের শাগরেদ শিমুলিয়া গ্রামের টনি মোল্লা বেশ কিছু দিন আগে আমার দোকানের শো-কেসের নিচে তিন পিস ইয়াবা রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে শো-কেসের নিচে থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়।’
তিনি বলেন, এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল এগুলো করেন।
তবে অভিযুক্ত মো. এনামুল শেখ এবং টনি মোল্লাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাদের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে কলোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্ত রহমান বলেন, মো. এনামুল শেখ কলোড়া ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এনামুল এই ন্যাক্কারজনক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুলিশের কিছু অসৎ সদস্য এবং ওই আওয়ামী লীগ নেতার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) আগদিয়া বাজারে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আগদিয়া বাজার বণিক সমিতি এ সমাবেশের আয়োজন করে।
কলোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্বাস সরদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিবেকানন্দ বিশ্বাস, সদর থানার ইনসপেক্টর (অপারেশন) সুকান্ত সাহা, বিছালী পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক মো. কাওছার আলী, মাওলানা আব্দুল কাদের, আগদিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি লিটন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার প্রমুখ।
সমাবেশে পুলিশ সুপার বলেন, যত বড় নেতাই হোক না কেন পুলিশের সোর্স সেজে এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ যদি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন