নড়াইলে পত্রিকা সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট: 02:49:17 11/09/2020



img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক লিটন দত্তের বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী পপি বিশ্বাস যৌতুক, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ এনেছেন।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সিংগাড়ি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক প্রমথ বিশ্বাসের মেয়ে পপি বিশ্বাস শুক্রবার সকালে নড়াইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি লিখিত বক্তব্যে স্বামীর যৌতুকের দাবি, বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও অত্যাচারের ফিরিস্তি তুলে ধরে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। ওই সময় তার দশ বছর বয়সী ছেলে দিপ্র ও ছয় বছর বয়সী মেয়ে জয়িতা উপস্থিত ছিল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৭ সালে সদর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের রায়খালী গ্রামের বঙ্কিম দত্ত লিটনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার বাবা লিটনকে যৌতুক হিসেবে নগদ চার লাখ টাকা ও চার ভরি সোনা দেন। কিন্তু স্বামীর লোভ ছিল অন্তহীন। আরো যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন স্বামী। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিভিন্ন সময় বাবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, নিজেদের জমির ফসল ও জমি বিক্রি করে এবং জমি বন্ধক দিয়ে যৌতুক দিয়েছেন। এভাবে স্বামীকে নগদ, বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী ও শ্বশুরবাড়িতে জমি রাখতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এতেও তার আশ মেটেনি।
‘পরে স্বামীর দাবিকৃত টাকা দেওয়ার সামর্থ না থাকায় আবার নেমে আসে নির্যাতন। এ কারণে দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার পর দুই সন্তানসহ আমাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। চার বছর ধরে সে আমার এবং দুই সন্তানের কোনো খোঁজ-খবর নেয় না। আমি নিজে রক্ত বিক্রি করে তাকে টাকা দিয়েছি। বাবার এতো বড়ো দেনা শোধ করতে নড়াইলে একটি ডায়াগস্টিক সেন্টারে এবং ঢাকায় গার্মেন্টস-এ চাকরি করতে বাধ্য হয়েছি। বাবা মানে কী- আমার সন্তানরা তা জানে না। স্বামী সন্তানদের পরিচয় দিতে চায় না। বর্তমানে স্বামী নড়াইল শহরে এক বিবাহিতা মহিলাকে নিয়ে ভাড়া থাকে। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ এলাকায় স্বামীর কাছে গেলে সে ও তার কয়েক সহযোগী আমাকে মারধর করে এবং ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর স্বামী লিটন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একটি লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন। এসব বিষয়ে সুবিচার দাবি করেন এই নারী।

মামলা
এদিকে, লিটন দত্তের বিরুদ্ধে সদর আমলি আদালতে ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টে মামলা হয়েছে।
এ মামলার আইনজীবী রাজু আহম্মেদ জানান, কয়েক মাস আগে শহরের ভওয়াখালী এলাকার নূর মোহাম্মদের কাছ থেকে লিটন দত্ত ব্যবসা করতে এক মাসের জন্য ২০ লাখ নেন। ওই সময় গ্রহিতা নূর মোহাম্মদকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, নড়াইল শাখার ২০ লাখ টাকার একটি আগাম চেক দেন। এক মাস অতিবাহিত হলে নূর মোহাম্মদ চেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু অপর্যাপ্ত তহবিল থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় পত্রিকার মাধ্যমে লিটনকে লিগ্যাল নোটিস দেওয়া হলেও টাকা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর সদরের আমলি আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য দৈনিক বিডি খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক লিটন দত্তের নাম্বারে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন