নড়াইলে হাত পা মুখ বাঁধা কলেজছাত্রী উদ্ধার

আপডেট: 03:08:15 18/10/2020



img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের এক ছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। মেয়েটিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাত নয়টার পর চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান কমপ্লেক্সের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রী সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অনার্স হিসাববিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষে পড়েন। তিনি কালিয়া উপজেলার একটি গ্রামের মেয়ে। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরলেও আতংকিত হয়ে আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন তিনি।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জিদার চৌধুরী বলেন, মেয়েটির পুরোপুরি জ্ঞান এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাকে শারীরিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে কিনা তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘সে (ছাত্রী) প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ হোস্টেলের পাশে কোচিং করতে গিয়েছিল। সকাল নয়টা ২০ মিনিটের দিকে তার সাথে আমার কথা হয়। তাকে একটি নতুন মোবাইল সিম কিনতে বলি। এরপর তার সাথে আর কথা হয়নি। দুপুরে বাড়িতে না যাওয়ায় তাকে ফোন করি। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে একটা নম্বর থেকে আমার কাছে ফোন করে বলা হয়, মেয়েকে পেতে হলে পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। তখন আমি পুলিশের সাথে যোগাযোগ করি। পরে সন্ধ্যার পর এক মহিলা কণ্ঠে মেয়ের পুরনো ফোন নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে বলা হয়, সুলতান কমপ্লেক্সের পাশ থেকে আপনার মেয়েকে নিয়ে যান। এ সময় সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করে।’
নড়াইল সদর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সুকান্ত সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই সদর থানা পুলিশ সুলতান কমপ্লেক্সের শিশুস্বর্গ ভবনের পূর্ব পাশে একটি কচুক্ষেত থেকে রাত নয়টা ২০ মিনিটের দিকে মেয়েটিকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রোববার সকালে এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মশিউর রহমান বাবু জানান, মেয়েটিকে হাসপাতালে আনার পর বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিল, সকালে তার জ্ঞান ফিরেছে। হাসপাতালের মেডিকেল টিমের ডাক্তাররা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন