নড়াইল হাসপাতালের ৭০ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ’

আপডেট: 10:45:32 07/04/2021



img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল সদর হাসপাতালের ২১ মাসের ইউজার ফি-এর (হাসপাতালের বিভিন্ন খাত থেকে আয়ের টাকা) ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের এ অর্থ জমা দেওয়ার কথা। হিসাবরক্ষক ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার কিছু চালান দেখাচ্ছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছেন, এসব চালান জাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহান আরা খানম লাকি ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগ দেন। হাসপাতালের রোগী ভর্তি ফি, অপারেশন থিয়েটার, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা ফি, এক্স-রে, প্যাথলজি, আলট্রাসনো ও ব্লাড ব্যাংক,  কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ফি, অ্যাম্বুলেন্স, ইসিজি, কেবিন ও পেইং বেড ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে যে আয় হয় তা প্রতি মাসে একবার করে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দিতে হয়। এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বর্তমান হিসাবরক্ষক হাসপাতালে যোগদানের পর কোনো অর্থ জমা দেননি।
অভিযোগ উঠেছে, হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতালে যোগদানের পর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ৪৫ লাখ টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরের নয় মাসের ২৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেননি। তবে তিনি সোনালী ব্যাংকে এসব অর্থ জমা দেওয়ার চালান দেখাচ্ছেন, যা ভুয়া।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকি বলছেন, কিছু টাকা জমা দিতে বাকি আছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দেবেন। তবে কত টাকা বাকি রয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি। এর বেশি আর কিছু বলতেও চাননি।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর শুকুর বলেন, ‘ইউজার ফি সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা পড়ছে কি-না তা যাচাই করার জন্য হিসাবরক্ষকের কাছ থেকে ব্যাংকের সই ও সিল স্বাক্ষরিত চালান নিয়ে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সোনালী ব্যাংকে যাই। গিয়ে দেখি গত ২১ মাসে অর্জিত ৭০ লাখের মধ্যে এক টাকাও জমা পড়েনি। সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার জানিয়েছেন, চালানগুলোর সই ও সিল তাদের না। এ ঘটনার পর হিসাবরক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তিন দিনের মধ্যে সমুদয় অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বলেছি। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জানাতে তাকে চিঠি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষককে পরবর্তীতে ইউজার ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
সোনালী ব্যাংক নড়াইল প্রধান শাখার ম্যানেজার মো. আবু সেলিম বলেন, ‘সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহোদয় যেসব চালান নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন, তার কোনোটিই ব্যাংকে জমা পড়েনি।’
নড়াইল সদর হাসপাতালের সাবেক হিসাবরক্ষক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত একইভাবে হাসপাতালের ইউজার ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুদকের মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নম্বর-৪/২০২০।

আরও পড়ুন