নড়াইল হাসপাতাল শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায়নি কেউ!

আপডেট: 02:36:06 22/02/2021



img

নড়াইল প্রতিনিধি : মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়নি নড়াইল সদর হাসপাতালের শহিদ মিনারে। চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে কেউই শ্রদ্ধা জানাতে যায়নি এ শহিদ বেদীতে। স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত এ শহিদ মিনারটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে নড়াইল সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক স্বাচিপের (স্বাধীনতা চিকিসক পরিষদ) সদস্য সচিব ডা. আব্দুল কাদের জসিমের উদ্যোগে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে টেরাকোটার কাজসমৃদ্ধ এ শহিদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক, বিএমএ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, নার্স এবং স্বাস্থ্য বিভাগ ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছর শহিদমিনারটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসার কাজে আসা মানুষ যখন-তখন জুতা পায়ের শহিদমিনারে উঠে বসে থাকে।
নড়াইল শহরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রাজিব আহম্মেদ বলেন, রাত ১২টা ২৫ মিনিটে হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখি শহিদমিনারসহ তার চারপাশে কোনো ঝাড়ু দেওয়া বা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়নি। সেখানে কাউকে শ্রদ্ধা জানাতেও দেখা যায়নি। পরদিন সকালেও শহিদবেদীতে কোনো ফুল বা তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সাকুর বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শহিদ স্মরণে নড়াইলের কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে মাল্যদান করা হয়েছে। সে কারণে এখানে মাল্যদান করা হয়নি।
শহিদ মিনার চত্বর পরিষ্কারের ব্যাপারে বলেন, হাসপাতালে মাত্র তিনজন সুইপার রয়েছে। এর মধ্যে একজনের ক্যানসার হয়েছে। যে কারণে হাসপাতাল এলাকা ঠিকমতো পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে না।
শহিদদের প্রতি যদি শ্রদ্ধা জানানো না হয় তাহলে শহিদমিনারটি তৈরি করলেন কেন?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'এটি অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের জসিমের উদ্যোগে করা হয়েছিল। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহিদমিনার থাকে। হাসপাতালে শহিদ মিনারতো কোথাও দেখি না। তারপরও এখানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা যেতে পারতো। শহিদমিনারে মাল্যদানের টিম লিডার ছিল আরএমও। আপনি তার সাথে একটু কথা বলেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।'

আরও পড়ুন