নয় দিন পর তুলে ফেলা হলো সেই রাস্তার কার্পেটিং

আপডেট: 04:33:50 23/09/2020



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : নির্মাণের সাত দিনের মাথায় উঠে যাওয়া রাস্তাটি পরিদর্শন করেছে দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। এ দলে নেতৃত্ব দেন যশোরের উপ-পরিচালক নাজমুস সাদাত।
‘ঝিনাইদহে নির্মাণের সাত দিনেই উঠে যায় রাস্তার কার্পেটিং’- বিষয়ক একটি খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দুদক এই পদক্ষেপ নেয়।
পরিদর্শনকালে দুদকের টিম-মেম্বাররা জানান, দেখে বোঝা যাচ্ছে কাজটি নিম্নমানের হয়েছে। রাস্তার কাজে যারা দুর্নীতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বুধবার সকাল থেকে সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশের রাস্তার কার্পেটিং ভেকু মেশিন দিয়ে উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভেকু দিয়ে কার্পেটিং ওঠানোই প্রমাণ করে কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুম মিয়ার দাবি, ‘রাস্তার কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না। যেখানে রাস্তা উঠে যাচ্ছে, ওইখানে টিউবওয়েলের পানি যায়। যে কারণে এমন হয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে কাজ করায় ৩০০ মিটার মতো রাস্তার সমস্যা হয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত সব রাস্তা ঠিক করে দেবো। ইতিমধ্যে ওই এলাকার কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়েছে।’
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ডাকবাংলো পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা মজবুতিসহ ওয়্যারিংয়ের কাজ চলছে তিন বছর ধরে। এক সপ্তাহ আগে কালীগঞ্জ নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকাকরণের জন্য কার্পেটিং বা বিচিকরণের কাজ শুরু করা হয়। চার থেকে পাঁচ দিনে তিন কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করে। এরপর বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু এরই মধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গেছে। কোথাও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
টেন্ডারে রাস্তার কাজ পান খুলনার মুজাহার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তার ব্যয় ধরা হয় ১৯ কোটি টাকা। কিন্তু হাতবদল হয়ে রাস্তার কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম মিয়া।
সড়কটির কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। তবে সিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ সম্পন্নের তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরামত করে দেবেন।

আরও পড়ুন