পরাজয়ে পুলিশকে দুষছেন সাতক্ষীরা আওয়ামী লীগ নেতারা

আপডেট: 02:35:08 15/02/2021



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : দুই-একটি বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচন। পুলিশের আগ্রাসী মনেভাবের কারণে কোণঠাসা ছিলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কয়েক স্থানে পুলিশের লাঠিচার্জ ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর। পুলিশের লাঠিপেটার পর মুহূর্তের মধ্যে সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ভোটে ধস নামতে শুরু করে। পাল্টে যায় নির্বাচনী দৃশ্যপট। মনোবল হারিয়ে ফেলেন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা। এ ঘটনার জন্য 'অতি উৎসাহী' কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা।
রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ভোটাররা অবাধে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
দিনের প্রথম প্রহরে সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হবি। খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রসুলপুর কেন্দ্রে যান। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পাল্টা জবাব দিতে না পারায় সাধারণ কর্মী সমার্থকদের মনবল ভেঙে যায়।
এদিকে, পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া নবনূর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফিরোজ আহমেদ ও আব্দুস সালামসহ চারজন। তাদেরকে সাতক্ষীরা হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এজেন্টকে এক দলীয় কর্মী নাস্তা দিতে গেলে বাধা দেন পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নৌকা নদীতে ভাসিয়ে  দেওয়ার হুমকি দিলে ঘটে যায় বিপত্তি। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাহউদ্দীন। তার নির্দেশে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে পাঁচ আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, কয়েক মিনিটের মধ্যে এ খবর পৌরসভার ৩৭টি ভোট কেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ে। ভোটকেন্দ্রেগুলোতে দায়িত্বরত নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা নেমে আসে। অনেক কর্মী কেন্দ্র ত্যাগ করে বাড়ি চলে যান। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম নামে এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজ বলে নৌকা দেশ থেকে তুলে দেবে। এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না। পুলিশের আচরণ  দেখে মনে হয়েছে তারা টাকা খেয়ে এসব করেছে।'
এক নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম হোসেন বলেন, ''নৌকা প্রতীকের এবং আমার নির্বাচনী কর্মীকে কেন্দ্রের আশেপাশে থাকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের পোলিং এজেন্টেদের জন্য খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। উল্টো খিস্তি-খেউড় করে গ্রেফারের ভয় দেখানো হয়। নৌকার বিপক্ষের প্রার্থীদের জন্য পুলিশ সদস্যরা বেশি আন্তরিক ছিল। পুলিশের এই ধরনের আচরণের বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা বলে, 'নৌকার গুষ্ঠি মারি, তোর নৌকাই থাকবে না। নৌকা নদীতে ভাসিয়ে দেবো। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কোনো ছাড় নেই' বলে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়।''

জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ''সকালে এক ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পর পরিচিত এক পুলিশ সদস্য আমাকে বলে, 'এখানে কী করতে এসেছেন? বাড়ি চলে যান।' আমি সম্মান নিয়ে বাড়ি চলে আসি। তাদের আচরণ খুব বেশি ভালো ছিল না।''
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, নৌকার ব্যাচ থাকলে তাকে কেন্দ্রর আশেপাশে থাকতে  দেওয়া হয়নি, লাঠিচার্জ করে বের দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজ আমাদের সাথে আস্ফালন করে বলে, 'তোদের নৌকা দেশ থেকে তুলে দেবো।' পুলিশের লাঠিচার্জের কারণে আমিসহ আওয়ামী লীগের চারজন নেতকর্মী আহত হই। পুলিশ আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পুলিশের বিমাতাসূলভ আচরণের কারণে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা মনোবল হারিয়ে মাঠ ছেড়ে দেওয়ার কারণে নৌকার ভোট কমে গেছে। দিন শেষে আমাদের পরাজয় হয়েছে।''
পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কিছু লোক ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছিল। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।

একই কথা বলেছেন, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন।

আরও পড়ুন