পরিকল্পিত মৌচাষ : বাড়ছে তেল ও মধুর উৎপাদন

আপডেট: 02:19:37 02/01/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : তেলজাতীয় ফসলের (সর্ষে ও তিল) উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে যশোরের মণিরামপুরে কৃষক পর্যায়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি চাষ শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে আদর্শ বীজের ডিলার তৈরিতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ১৪ জন নির্বাচিত কৃষককে বিনামূল্যে মৌবক্স দেওয়া হয়েছে। মৌমাছি সংগ্রহ করে কৃষকরা বাসাবাড়িতে বা ছাদে মৌবক্স বসিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মধু উৎপাদন শুরু করেছেন। এরফলে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বাড়ছে আবার পরিবারের চাহিদা মেটাতে মধু পাচ্ছেন কৃষকরা। আবার এই কৃষকদের দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন অনেকেই।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ডাল, তেল ও পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন (এসএমই) প্রকল্পের আওতায় দেশীয়ভাবে বীজের উৎপাদন বাড়াতে ও আদর্শ কৃষক তৈরিতে কাজ করছে সরকার। এরই মধ্যে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে একজন করে কৃষক নির্বাচন করেছে কৃষি অফিস। মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়নের ফলে সর্ষের উৎপাদন বাড়ে। একইসঙ্গে মধু উৎপাদনও হয়। এই কাজ এগিয়ে নিতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে একজন করে কৃষককে সরকারি খরচে উন্নতমানের একটি করে মৌবক্স দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার এবং বীজও বিনামূল্যে সরবরাহ করছে অফিস।
এমন একজন কৃষক উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিজের দোকানের ছাদে মৌবক্স বসিয়েছেন। ইতিমধ্যে দুই বার মধু সংগ্রহ করতে পেরে খুশি সিরাজুল।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গতবছর মৌবক্স পেয়েছি। তখন মৌমাছি সংগ্রহ করতে না পারায় মধু উৎপাদন করতে পারিনি। এবার কালীগঞ্জ এলাকার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা খরচ করে আটটি মৌচাক এনে বক্সে বসিয়েছি। ফসল ও মধু বেশি পেতে নিজের এক একর জমিতে সর্ষে ও এক একর জমিতে মসুর চাষ করেছি। এছাড়া আশপাশে অনেকেই সর্ষের চাষ করেছেন। গত দুই মাসে দুই বার মধু সংগ্রহ করেছি। প্রথমবার অল্প মধু পেলেও পরেরবার পেয়েছি দেড় কেজি। এখন মৌমাছির সংখ্য অনেক। এবার মধুর পরিমাণও বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমি সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী। এলাকার অনেকেই আমার পরামর্শে চাষাবাদ করেন। এই পদ্ধতিতে নামমাত্র খরচে কৃত্রিমভাবে মধু পাওয়া যায়। তাছাড়া ফসল উৎপাদনও বাড়ে। ফলে মৌচাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকেই।’
সিরাজুল ইসলামের মতো আরেক আদর্শ বীজ উৎপাদনকারী রোহিতা ইউনিয়নের কোদলাপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন। তিনি বাড়ির মুরগির খোপের ওপর মৌবক্স স্থাপন করেছেন। তিনিও তিন হাজার টাকা ব্যয়ে পাঁচটি মৌচাক বসিয়েছেন। একমাসে একবার মধু সংগ্রহ করেছেন তিনি।
মশ্মিমনগর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, মৌমাছি আশপাশের তিন কিলোমিটার দূরত্ব থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারে। বক্সগুলো বেশ উন্নত ও দামী। সেইক্ষেত্রে ফসলের ক্ষেতে না বসিয়ে কৃষকরা নিরাপদ স্থানে বক্সগুলো স্থাপন করেছেন। প্রতিবক্সে ২০টি মৌচাক স্থাপন করা যায়। সেটা করতে পারলে প্রতিবার ৮-১০ কেজি মধু পাওয়া সম্ভব।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরককুমার সরকার বলেন, দেশীয়ভাবে বীজের উৎপাদন বাড়াতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে একজন করে কৃষক বাছাই করা হয়েছে। ওই কৃষকরা ডাল ও তেল জাতীয় বীজ উৎপাদন করবেন। সর্ষের উৎপাদন বাড়াতে বেশিবেশি পরাগায়নের প্রয়োজন। আর পরাগায়ন বাড়াতে কৃষকদের মৌবক্স দেওয়া হয়েছে। যেখানে তারা মৌচাষ করে বেশি ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি খাঁটি মধু পাচ্ছেন। এই কৃষকদের দেখাদেখি এলাকার অন্যরা উদ্যোগী হচ্ছেন।

আরও পড়ুন