পরীক্ষা শুরু হলেই প্রশ্নপত্র চলে যায় বাইরে!

আপডেট: 09:17:22 20/11/2019



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : সারা দেশের সাথে একযোগে মণিরামপুরেও চলছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা। মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ২৩টি কেন্দ্রে গত রেববার (১৭ নভেম্বর) থেকে চলছে এই পরীক্ষা। আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এছাড়া গত তিনদিনে ইংরেজি, বাংলা ও পরিবেশ পরিচিতি (সমাজ) পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, গত চার দিনের পরীক্ষায়ই উপজেলার মশ্মিমনগর সরকারি প্রাথমিক স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরপরই প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে যান কিছু শিক্ষক। এরপর তারা কেন্দ্রের পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে বসে তার সমাধান করেন। পরে হাতে লেখা সেই উত্তরপত্র কেন্দ্রে এনে বিভিন্ন কক্ষে সরবরাহ করেন।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সরেজমিন ওই এলাকায় গেলে শিক্ষকদের বই দেখে সমাধান করার তিনটি ভিডিওচিত্র এই প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছায়। যেখানে ৩-৪ জন শিক্ষককে মোবাইলে ধারণ করা প্রশ্ন পড়ে বই খুঁজে উত্তর বের করে খাতায় লিখতে দেখা গেছে।
তারা যেই কক্ষে বসে প্রশ্নপত্র সমাধান করেছেন, সেটি মশ্মিমনগর ইউনিয়নের খাজুরা কাঁঠালতলা সরকারি প্রাথমিক স্কুল। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মশ্মিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।
আর যেই শিক্ষকরা বই ঘেঁটে উত্তরপত্র তৈরি করছিলেন, তারা কাঁঠালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ, মশ্মিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান ও স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। এদেরমধ্যে মনিরুজ্জামানের ছেলে এবার মশ্মিমনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত তিনদিন পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেওয়ার পরপরই এই শিক্ষকরা কেন্দ্রে ঢোকেন। তারপর প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে সমাধান করে তারা কেন্দ্রে সরবরাহ করেছেন।
কিন্তু মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পোড়াডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান অভিযান চালানোর পর এরা সতর্ক হয়ে যান। যার ফলে আজ (বুধবার) প্রশ্নপত্র সরাসরি না নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে নিয়ে যান তারা। পরে তার সমাধান করে কেন্দ্রে পাঠান।
এদিকে এই কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার অভিযোগ ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফীও পেয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি অভিযানও চালিয়েছিলেন এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে দিয়ে। তবে এসিল্যান্ড যাওয়ার আগেই জড়িত শিক্ষকরা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় তিনি সরাসরি কোনো প্রমাণ পাননি।
এদিকে বাইরের স্কুল থেকে দুইজন পিয়ন কেন্দ্রে ডিউটিতে নেওয়ার কথা থাকলেও ওই কেন্দ্র সচিব শামীমা ইসমত আরা নিজ স্কুলের দুইজন পিয়নকেও অতিরিক্ত সঙ্গে রেখেছেন। যদিও তাদের নিজ কেন্দ্রে ডিউটি করার অনুমতি নেই। এই দুই পিয়নের মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র বাইরে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এবার ওই কেন্দ্রে মশ্মিমনগর ইউনিয়নের ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব শামীমা ইসমত আরা রুনা বলেন, ‘প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি খুব সতর্কতার সাথে পরীক্ষা পরিচালনা করছি।’
কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোপাল গোলদার বলেন, ‘প্রশ্ন বিতরণের পর অতিরিক্ত ১০-১২টা থেকে যায়। যা আমি আমার হেফাজতে রাখি। এই প্রশ্ন বাইরে যাওয়ার কথা না।’
ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘ওই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আগেও দুইবার অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। প্রশ্ন বাইরে নিয়ে সমাধান সংক্রান্ত ভিডিও পেয়েছি। সেগুলো পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন