পাগলা কানাইয়ের জন্মোৎসব শুরু

আপডেট: 03:01:39 09/03/2020



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : নানা আয়োজনের ঝিনাইদহে পালিত হচ্ছে মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের ২১০তম জন্মবার্ষিকী।
সোমবার সকালে কবির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজকুমার নাথ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
কর্মসূচির প্রথম দিনে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামের পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের আয়োজনে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ১৩ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন পরিবেশিত হবে কবির রচিত গান, পালাগান ও লোকনৃত্যসহ নানা পরিবেশনা। মেলার প্রথম দিনে দূর-দুরান্ত থেকে কবির ভক্তরা উপস্থিত হয়েছেন।
পাগলা কানাই ছিলেন লালন-পরবর্তী বাংলার অন্যতম মরমী সাধক ও লোককবি। তিনি ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ মার্চ মোতাবেক ১২১৬ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মেসের আলী আর মা মোমেনা খাতুন। কৈশোরে বাবার মৃত্যুর পর কানাই মামাবাড়ি বেড়বাড়ি চলে আসে। সেখানে সে রাখালের কাজ শুরু করে। এসময় সে আধ্যাত্মিক ভাবধারার একাধিক বাউল শিল্পীর সংস্পর্শে আসে। এরপর শুরু হয় তার মাঠে মাঠে রাখাল বালকদের সঙ্গে সঙ্গীতের বিকাশ। সে সময় তার গানে মুগ্ধ হয়ে মাঠের ক্লান্ত কৃষক আর রাখালরা তাকে ‘পাগলা কানাই’ বলে ডাকতেন। এভাবেই তার মুগ্ধ করা গানের কথা খুব অল্প সময়ে এলাকা ছেড়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
অল্প সময়ের মধ্যে তিনি আধ্যাত্মিক গান রচনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছরের জীবদ্দশায় প্রায় তিন হাজার আধ্যাত্মিক, ভক্তিসঙ্গীত এবং কবিতা রচনা করে গেছেন। তার রচিত গানের মধ্যে রয়েছে পালাগান, জারিগান, ধোয়াগান, কবিগান, মুর্শিদি, মারফতি এবং ইসলামিক গান।
১৮৮৯ সালের জুলাই মাস মোতাবেক ১২৯৬ বঙ্গাব্দের ২৮ আষাঢ় এই সাধকের মৃত্যু হয়। কবি পাগলা কানাইকে তার ভক্ত আর আত্মীয়-স্বজনরা মামাবাড়ি বেড়বাড়িতে দাফন করেন। সেখানেই সরকারিভাবে তৈরি করা হয়েছে ‘পাগলা কানাই স্মৃতি অডিটরিয়াম’। পাকা করা হয়েছে কবির কবরস্থানও।

আরও পড়ুন