পাটবাড়ি মন্দিরের পুরনো ভবন রেখে সংস্কার দাবি

আপডেট: 07:59:25 06/02/2021



img
img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : বেনাপোল সীমান্তের পাটবাড়িতে অবস্থিত ৫৭০ বছরের প্রাচীন নিতাই-গৌর মন্দির রেখে আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ইতোমধ্যে মন্দির রক্ষায় প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ মন্দিরের সাথে ধর্মীয় গুরু ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
তবে, মন্দির পরিচালনা পরিষদের দাবি, আধুনিকায়নে পুরনোটি বাধ্য হয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অন্যতম তীর্থস্থান স্থলবন্দর বেনাপোল পাটবাড়ি। বাজারের পাশে বেনাপোল গ্রামে প্রায় তিন একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত শ্রীশ্রীহরিদাস ঠাকুরের তীর্থস্থান। এখানে রয়েছে নিতাই-গৌর মন্দির। যা ৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে টাকির জমিদার শ্রীসূর্যকান্ত রায়চৌধুরী  প্রতিষ্ঠা করেন। এ জায়গায় রয়েছে ৫০০ বছরের প্রাচীন মাধবীলতা আর বিরল শ্রেণির তমালবৃক্ষ। রয়েছে হরিদাস ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত তীর্থস্থান।
এ অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় দর্শনীয় স্থান এটি। প্রতিবছর বিশেষ বিশেষ দিনে ধর্মীয় উৎসবে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় এখানে। এছাড়া এ স্থানটিতে গড়ে ওঠা প্রাচীন মন্দির আর বৃক্ষ দেখতে প্রতিদিনই আসেন সব ধর্মের মানুষ।   
সম্প্রতি প্রাচীন এ মন্দিরটির পাশে নতুন একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়। এ মন্দিরের পাশে অন্যান্য স্থাপনা বেড়ে যাওয়ায় পুরনো মন্দিরটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন মন্দিরের পরিচালনা পরিষদ। এতে মন্দির রক্ষায় বিভিন্ন দপ্তরের সহায়তা চেয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশ।
মন্দিরের আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এর সাথে স্থানীয়দের অনেক স্মৃতি। মন্দিরটি এখননো অনেক মজবুত। সংস্কার করলে বহুদিন টিকবে। এটাকে বাঁচিয়ে নতুন ভবনের উন্নয়ন কাজ করলে ভালো হয়। মহাপুরুষ আর পূর্বপুরুষের স্মৃতিচিহ্ন ধুলোমাখা শৈশব-কৈশোর বিলীন হয়ে যাবে- ভাবতেই খারাপ লাগে। এটি হিন্দু-মুসলিম, সব মানুষের মিলনস্থল। কোনো অতিথি এলে তাদের পাটবাড়ির ঐতিহ্য দেখাতে নিয়ে যায় অনেকে। ঐতিহ্য বিলীন হলে দর্শনার্থীদের আগ্রহ কমে যাবে।
বেনাপোল সীমান্তের ছোটআঁচড়া পাটবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত শ্রীশ্রীশ্যামাপতা জিও বলেন, 'আমরাও আধুনিকায়নের পক্ষে। তবে ইতিহাস, ঐতিহ্য ধ্বংস করে নয়। সরকার যখন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দেশের ঐতিহ্য রক্ষা করছে, তখন এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় স্মৃতিবিজড়িত এমন একটি ধর্মস্থান ভেঙে ফেলা হবে। মন্দিরটি সংরক্ষণ করা গেলে সবার জন্য ভালো হতো। মন্দির রেখেই প্রয়োজনে বিকল্প প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন করা যেতে পারে।'
বেনাপোল পাটবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি তাপস বিশ্বাস বলেন, মন্দিরটি অনেক পুরাতন ও জরাজীর্ণ। ডিজিটাল দেশ গড়তে সবখানে উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ভাঙা পড়ছে পুরাতন মন্দিরটি। তবে, অন্যান্য স্থাপনা বা প্রাচীনবৃক্ষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
বেনাপোল পাটবাড়ি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফণীভূষণ পাল বলেন, পুরনো মন্দির ভাঙার সিদ্ধান্ত কারো ব্যক্তিগত না। অনেক অভিভাবকের সাথে পরামর্শ করে উন্নয়ন কাজের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মন্দিরের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পুরনো মন্দির ভাঙার বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু কিছু মানুষ অভিযোগ তুলেছেন, তাই বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা হতে পারে। কিছুদিনের মধ্যে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য বেনাপোলে আসবেন, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, নিজস্ব সীমানার মধ্যে অবকাঠামো ভাঙা-গড়া মন্দির কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে পৌরসভার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কম। তবে, একই সম্প্রদায়ের একটি অংশ যেহেতু মন্দিরটি রক্ষায় আবেদন জানিয়েছেন, তাই পুরনো মন্দির রেখে উন্নয়ন কাজ করা যায় কি না- সেটা বিবেচনা করতে কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলককুমার মণ্ডল বলেন, 'ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি এখনো সেভাবে দেখতে পারিনি। কয়েকদিনের মধ্যে একটি কমিটি করে তদন্ত করে দেখা হবে।'

আরও পড়ুন