পাবদা চাষে কালীগঞ্জের মমরেজের সাফল্য

আপডেট: 03:13:04 07/01/2020



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ পাবদা চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন মমরেজ আলী বিশ্বাস নামে এক খামারি।মমরেজ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলহাজ শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। জামাল ইউনিয়নের তৈলকুপি গ্রামে ছয় একর আয়তনের পুকুরে পাবদামাছের চাষ করছেন তিনি।
জেলার খাল-বিল, নদ-নদী ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখলে থাকায় দেশীয় মাছ ট্যাংরা, পুঁটি, কই, পাবদা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এমন সময় পুকুরে পাবদা চাষের সফলতা উৎসাহিত করছে অনেককে।
উপজেলা মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় ২০১৮ সালে মমরেজ আলী বিশ্বাস (৪৯) মাত্র ২৫ শতাংশ আয়তনের পুকুরে দশ হাজার পাবদামাছ চাষ করেন। মাত্র সাত মাস পরে খরচ বাদে ওই বছর তিনি ৩০ হাজার টাকা মুনাফা পান। আশানুরূপ উৎপাদনে অন্য যেকোনো মাছ চাষের থেকে বেশি মুনাফা পাওয়ায় তিনি আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
এরপর ২০১৯ সালের মে মাসে ছয় একর পুকুরে সাড়ে তিন লাখ পাবদার পোনা ছাড়েন। তখন মাছের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় দুই ইঞ্চি। সেই সময় প্রতি পিচ মাছ কিনতে হয়েছিল এক টাকা দরে। পাবদা মাছের সঙ্গে প্রতি শতাংশে দশ পিচ করে কার্পজাতীয় মাছ ছেড়েছিলেন মোমরেজ। সাত মাস পরে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১২ টন পাবদা মাছ বিক্রি করেন তিনি; যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া এক মাস পর কার্পজাতীয় মাছ বিক্রি থেকে কমপক্ষে আরো আট লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন মোমরেজ। জলাশয় লিজ, খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল, নিয়মিত ও অনিয়মিত শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মিলে ৩৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে এই মাছচাষির। সেই হিসেবে তার নিট মুনাফা কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা।
মাছ বাজারজাতকরণ নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে এই মাছ বিক্রি করলে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দাম পাওয়া যায়। তবে ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারলে কেজি প্রতি ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা দর পাওয়া যায়।
মমরেজ জানান, এ বছরে তার উৎপাদিত সব মাছ ভারতীয় এক ব্যবসায়ী কিনে নিয়েছেন।
মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে মমরেজ বলেন, যে পুকুরে মাছ চাষ করা হবে প্রথমে সেই পুকুর সেচে পানিশূন্য করে চুন দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। পরে মাছের পোনা ছাড়তে হবে। মাছের ওজনের ২০ থেকে ২৫ ভাগ পরিমাণ খাবার খাওয়াতে হয়। এ মাছে খুব একটা রোগ-বালাই দেখা যায় না।
কালীগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান রেজা জানান, বৃহত্তর যশোর জেলায় মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে খামারি মমরেজ বিশ্বাসকে দশ হাজার পাবদামাছ ও পাঁচ ব্যাগ খাবার দেওয়া হয়। মাত্র ২৫ শতাংশ জলাশয়ে পাবদা চাষ করে তিনি বেশ লাভবান হন এবং সেখান থেকে উৎসাহিত হয়ে ২০১৯ সালে ১৮ বিঘা পুকুরে পাবদা মাছের চাষ করে আরো অধিক লাভবান হয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশি প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া মাছ ফিরিয়ে আনতে মৎস্য অধিদপ্তর নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে কালীগঞ্জ মৎস্য অফিস পাবদামাছ চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন