পুরনো এক্স-রে মেশিন গছিয়ে দেওয়া হলো চৌগাছায়

আপডেট: 08:43:07 02/07/2020



img

চৌগাছা (যশোর)  প্রতিনিধি : চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুনের বদলে পুরনো একটি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন রঙ করে বসানো হয়েছে। পুরনো মেশিন হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সরবরাহকার প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়নপত্র দিয়ে দিয়েছেন।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পুরনো মেশিন দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলছেন, নতুন মেশিন কেনার বাজেট দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার বলছেন, এটা দুর্নীতি। মানা হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এডিবি বরাদ্দ তিন লাখ ৫০ হাজার টাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন সংযোজন করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজের যোগসাজসে নতুন পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনের বদলে একটি রিকন্ডিশন্ড মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি একজন ডাক্তার হিসেবে এসব মেশিন আমার চেনা। আমি কেন, যে কেউ দেখেই বুঝতে পারবে এটি নতুন নয়। একটি পুরনো মেশিন রঙ করে সরবরাহ করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, ‘আমার এক্সেরে অপারেটর ও স্টোরকিপার বললো মেশিনটি ঠিক আছে। তাদের কথামতো আমি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। এটা আমার ভুল হয়েছে।’
এক্স-রে অপারেটর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘মেশিনটি সচল আছে। কিন্তু নতুন নাকি পুরনো- সেবিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
হাসপাতালের স্টোরকিপার ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো কাগজপত্র দেয়নি বলে আমি এক্স-রে মেশিনটি রিসিভ করিনি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনটি গ্রহণ করলেন, আমার মাথায় আসছে না। নুতুন মেশিনের বদলে পুরনো মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। আবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কীভাবে প্রত্যয়নপত্র দিলেন- বুঝতে পারছি না।’
ইউএনও আরো বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মেশিন কেনার সম্পূর্ণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। তারা রাজিও হয়েছে।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন,  ‘উপজেলা মডেল হাসপাতালকে আরো আধুনিক করতে এবং উপজেলার মানুষের উপকারের জন্য একটি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন ক্রয়ের জন্য এডিবির বরাদ্দ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুনছি একটি পুরনো মেশিন কেনা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ যেই হোক, তিনি রেহাই পাবেন না।’
সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএকে এন্টারপ্রাইজের মালিক কবির হোসেন পুরনো এক্স-রে মেশিন স্থাপনের কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, এই ধরনের একটি নতুন মেশিনের দাম ১৫ লাখ টাকা। এডিবির বরাদ্দ করা সাড়ে তিন লাখ টাকায় এই মেশিন কেনা সম্ভব না।

আরও পড়ুন