পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিই কাল হয় দেবীর!

আপডেট: 08:06:32 08/04/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার : চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় পাচু বিশ্বাসকে (৩৫) পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন দেবী টিকাদার (৩৭)। এ কারণে চাকু দিয়ে তাকে হত্যা করেন মণিরামপুরের নেবুগাতী গ্রামের পাচু বিশ্বাস।
গ্রেফতার পাচু পুলিশের কাছে এ তথ্য দিয়েছেন। পরে আদালতে হত্যার ব্যাপারে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আজ বিষয়টি জানিয়েছেন।
গত সোমবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার কুচলিয়া গ্রামের একটি মাছের ঘেরের পাড় থেকে দেবী টিকাদারের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের বুক, থুতনি এবং হাঁটুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
দেবী মণিরামপুর উপজেলার কুচলিয়া গ্রামের পীযূষকান্তি টিকাদারের স্ত্রী। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ ঘটনায় দেবী টিকাদারের স্বামী পীযূষকান্তি টিকাদার সোমবার রাতে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
যশোরের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার রাতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোলগাতিয়া গ্রাম থেকে পাচু বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। এরপর তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ওই রাতে কুচলিয়া গ্রামের মুকুন্দ সরকারের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।
পীযূষকান্তি টিকাদার পাশেরর অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী বাজারে তরকারি বিক্রি করেন। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে দেবী পাশের গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর গত সোমবার সকালে বাড়ির পাশে একটি মাছের ঘেরের পাড়ে বিবস্ত্র অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, পুলিশের কাছে এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পাচু বিশ্বাস জানিয়েছেন, পীযূষকান্তি টিকাদারের স্ত্রী থাকা অবস্থায় দেবী টিকাদারের সঙ্গে পাচু বিশ্বাসের প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা গোপনে বিয়ে করেন। এরপর দেবীকে নিয়ে পাচু অন্যত্র চলে যান। দুই বছর একসাথে থাকার পর তারা নিজ নিজ বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু পাচুর সঙ্গে দেবীর সম্পর্ক রয়ে যায়। গোপনে তারা বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতেন।
পুলিশ জানায়, দেবী প্রায়ই পাচুর কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) পাচু চাহিদামতো দেবীকে সাত হাজার টাকা দেন। এরপর শনিবার আবার দেবী তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু পাচু তাকে দুই হাজার টাকা দেন। এতে দেবী ক্ষুব্ধ হয়ে পাচুকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় পাচু চাকু দিয়ে দেবীকে হত্যা করেন।
পাচু বিশ্বাস পুলিশের কাছে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন