পুড়াপাড়ায় খাস জমিতে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ

আপডেট: 07:57:05 01/12/2020



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া বাজারের কোটি কোটি টাকা মূল্যের খাস জমিতে একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবনসহ দোকানপাট। কোনোভাবেই ভূমিদস্যুদের রুখতে পারছেন না সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, জমি ফেরত পেতে ৭৭টি মামলা করেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কারণেই বেদখল হয়ে যাচ্ছে জমিগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর মৌজার পুড়াপাড়া বাজারের এসএ এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত পাঁচ দাগে ৪০ শতক, আট দাগে ২ দশমিক ৪ শতক, দশ দাগে ২ দশমিক ৫৬ শতক, ১১ দাগে ৮১ শতক, ১৪ দাগে ৬৭ শতক, ১২ ও ২৯ দাগে ৭৫ শতক মোট ৭ একর ২৩ শতক জমি পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ পক্ষে কালেক্টর যশোরেরর নামে এসএ রেকর্ড প্রকাশিত হয়। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও ভূমিদস্যুরা বাজারের প্রায় সব খাস জমি দখল করে নিয়েছেন। ফলে বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসানোর কোনো জায়গা নেই। সম্প্রতি বাজারের হাইস্কুল রোডের রোজাউল হকের মুদি দোকানের দক্ষিণ পাশে ৮ ও ১২ নম্বর দাগে খাস ও পেরিফেরিভুক্ত জমির ওপর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া গ্রামের মৃত হুজুর আলীর ছেলে ওয়াজ্জেদ আলী প্রভাব খাটিয়ে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন করে বহুতল ভবন নির্মাণনর কাজ শুরু করছেন।
স্থানীয়রা এ ব্যাপারে ভূমি অফিসে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান। তাদের দাবি, মান্দারবাড়ীয়ার (জোকা) ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামাউল হোসেন ভবন নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করার পরের দিনই 'ভূমিদস্যু' ওয়াজ্জেদ আলী বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
মান্দারবাড়ীয়ার (জোকা) উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওয়াজ্জেদ আলীকে ভবন নির্মাণ করতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তিনি সকল নিষেধ অমান্য করে ভবন নির্মাণ করায় বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করেছি।’
মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল কাদের বলেন, 'পুড়াপাড়া বাজার এই জেলার একটি বড় বাজার। সেখান থেকে সরকার প্রতি বছরে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। কিন্তু দখলের কারণে হাট বসানোর মতো জমি আর নেই। সব জমি ব্যক্তি নামে রেকর্ড হয়ে গেছে। আমি শুনছি, এই বাজারসহ আসে পাশের গ্রামের কয়েকশ লোক বিশ্বনাথপুর মৌজার আরএস রেকর্ড বাতিল চেয়ে ভূমি জরিপ অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।'
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘পুড়াপাড়া বাজারের সরকারি জমি ফেরত আনতে ৭৭টি মামলা করা হয়েছে। আমরা জমি ফিরিয়ে আনতে যা যা করার সব করে যাচ্ছি। আমি নিজে জোনাল সেটেলমেন্ট স্যারের সাথে কথা বলেছি। জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি একটি  বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

আরও পড়ুন