পোনার আকাল, চিংড়িচাষিরা বিপাকে

আপডেট: 02:57:33 19/02/2020



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : মৌসুমের শুরুতেই পাইকগাছা, কয়রা এলাকায় সংকট দেখা দিয়েছে চিংড়ি পোনার। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি পোনার চাহিদার স্থলে সরবরাহ মিলছে এক থেকে দেড় কোটি। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে দিনে তিন কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি।
সরবরাহ কম থাকায় গত বছরের চেয়ে এবার পোনার দামও অনেক বেশি। ফলে মহাবিপাকে রয়েছেন চিংড়ি চাষিরা।
প্রাকৃতিক উৎস থেকে পোনা আহরণ বন্ধ, স্থানীয় হ্যাচারিতে সরবরাহ না থাকা, কক্সবাজারের হ্যাচারিগুলো থেকে কম সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় মা চিংড়ির অভাবে পোনা সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন পোনা ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃস্থানীয়রা।
উপকূলীয় এলাকা খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা চিংড়ি চাষের জন্য সমৃদ্ধ। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসেবে, পাইকগাছায় প্রায় ২০ হাজার এবং কয়রা উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে। প্রতিবছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ঘেরগুলো নতুনভাবে প্রস্তুত করে চাষ শুরু করা হয়।
ইতোমধ্যে এলাকার অর্ধেকেরও বেশি ঘের প্রস্তুত হয়ে গেছে চিংড়ি চাষের জন্য। সাধারণত শীত শেষে গরমের শুরুতেই চাষিরা ঘেরে পোনা মজুদ করে থাকেন। যে সব চাষির ঘের প্রস্তুত করা হয়ে গেছে, তারা এখন পোনার জন্য হন্যে হয়ে উঠেছেন। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী চিংড়ি পোনা মিলছে না। প্রতিদিন অসংখ্য চাষি সরবরাহকারীদের কাছে এসে পোনা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সকালে কক্সবাজারের পোনা এলাকায় পৌঁছানোর পর পোনা নেওয়ার জন্য সরবরাহকারীদের কাছে হত্যে দিচ্ছেন চাষিরা।
পাইকগাছার ‘সবুজ মৎস্য খামার’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ ইসতিয়ার রহমান শুভ বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতেই চিংড়ি পোনা নিয়ে বিপাকে রয়েছি। ঘের প্রস্তুত করার পরও প্রতিদিন যে পোনার প্রয়োজন তা দশ দিনের সংগ্রহেও মিলছে না। শুরুতেই এ ধরনের পোনা সংকট থাকলে উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’
খুলনা বিভাগীয় পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, পুরস্কারপ্রাপ্ত চিংড়ি চাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন জানান, স্থানীয় হ্যাচারিগুলো এখনো সরবরাহ শুরু করতে পারেনি। রয়েছে মা চিংড়ির অভাব। ফলে মৌসুমের শুরুতেই চিংড়ি পোনার সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশিষ্ট এ ব্যবসায়ী বলেন, পাইকগাছায় চারটি হ্যাচারি রয়েছে। যার মধ্যে দুটি উৎপাদন শুরু করলেও এখনো সরবরাহ করতে পারেনি। কয়রার দুটির মধ্যে একটা উৎপাদন শুরু করলেও সরবরাহ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালনায় পাঁচটি হ্যাচারির মধ্যে দুটি সরবরাহ শুরু করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। পাইকগাছা-কয়রায় এখন প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ কোটি পোনার চাহিদা রয়েছে। চাহিদার স্থলে প্রতিদিন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। সংকট থাকায় গত বছরের চেয়ে এ বছর পোনার দাম অনেক বেশি। গত বছর যেখানে প্রতি হাজার পোনা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতো, সেখানে এ বছর প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে।
এ ব্যাপারে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্রকুমার দাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘পোনা সংকটের বিষয়টি কোন ঘের মালিক এখানো আমাদের অবহিত করেনি। তবে এসপিএফ (রোগমুক্ত) পোনার চাহিদা বেশি থাকায় সাধারণ হ্যাচারি মালিকদের মধ্যে হয়তো এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। ফলে হ্যাচারিতে তুলনামূলক পোনা উৎপাদন কম হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে পোনা সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন