প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে দুদকের দল খুলনায়

আপডেট: 01:44:34 20/10/2016



img
img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : নগরীর ময়ূর নদীর পাড়ে ‘লিনিয়ার পার্ক’ এবং ‘শহীদ হাদিস পার্ক নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল খুলনায় এসেছে।
প্রতিনিধি দলটি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এ প্রকল্প দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন এবং এর প্রতিটি কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে।
এর আগে বুধবার প্রতিনিধি দলটি ঢাকা থেকে খুলনায় আসে। এ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) শেখ আব্দুস সালাম। সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান মুফতি। তদন্তে সহায়তা করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা, সহকারী প্রকৌশলী সোলায়মান হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শ্যামলকুমার পাত্র ও শেখ ওয়ালিদ ইবনে হাসান।
প্রতিনিধি দলের প্রধান দুদক উপ-পরিচালক শেখ আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রকল্প দুটির কারিগরি দিকগুলো সরেজমিনে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রকল্পভুক্ত কাজগুলো শিডিউল অনুযায়ী হয়েছে কি-না তাও একেবারে সুতা ধরে মাপজোক করে দেখা হচ্ছে। তবে যেহেতু বিষয়টি টেকনিক্যাল, সেজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের দিয়েই পরিমাপ করা হচ্ছে। তাদের রিপোর্ট পেলেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তবে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।
কেসিসির সূত্র জানান, খুলনার ঐতিহ্যবাহী শহীদ হাদিস পার্কটি উন্নয়নের জন্য আট কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালে একটি প্রকল্প শুরু হয় । প্রকল্পে শহীদ মিনার প্লাজা নির্মাণসহ আরসিসি ওয়ার্ক, কলাম, বিম, ব্রিক, সিসি ওয়ার্ক কালার পেভিং ব্লক, টাইলস বসানো, আরসিসি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ সিরামিক ব্রিকস, এসএস পাইপের গ্রিল ও গেট, পার্ক অভ্যন্তরের পুকুরের চারপাশ রিটেইনিং আরসিসি ওয়াল নির্মাণ, শহীদ মিনার ও হাদিস পার্ক পুকুরের চারপাশ ও পুকুরের ওপর ওয়াকওয়ে নির্মাণ, শহীদ মিনার চত্বরে পাবলিক টয়লেট, ভূমি উন্নয়ন, পুকুরের মধ্যে ঝরনা নির্মাণ, শহীদ মিনার চত্বরে ইলেকট্রিক সুইচ বক্সসহ ইলেকট্রিফিকেশ এবং প্লানটেশন ও বিউটিফিকেশনের কাজ।
প্রকল্পটির সর্বশেষ বাস্তবায়নকাল ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ছিল। কিন্তুকাজ সমাপ্ত হয়নি। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক ও করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম খাতা-কলমে প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অপরদিকে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে নগরবাসীর চিত্ত-বিনোদনের জন্য ময়ূর নদীর তীরে ১৪ একর জায়গা ঘিরে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কেসিসি। পার্কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। প্রকল্পে আরসিসি পিলার ও তারকাঁটার প্রাচীর, প্রবেশ দ্বারের বাম পাশে পাঁচটি দোকান, এন্ট্রিপ্লাজা (টিকিট কাউন্টার ও এন্ট্রিগেটসহ), পার্কিং জোন, রেস্টুরেন্ট, অফিস শেড ও সিকিউরিটি শেড, বাঘ ও হরিণের দুটি রেপি¬কা, চার তলা অবজারভেশন টাওয়ার, দশটি আমব্রেলা শেড, দুটি টয়লেট, প্যাডেস্ট্রিয়ান, ওয়াকওয়ে, দুটি পিকনিক শেড (কিচেন শেডসহ) এবং ডেকোরেটিভ বাউন্ডারি ওয়াল ও ছয়টি ফ্লাওয়ার। চিলড্রেন জোনের মধ্যে চারটি সসি স, ১টি সি স সার, চারটি পেন্ডুলাম, চারটি ক্লাম্বিং পোল, দুটি মেরি গ্রাউন্ড, জ্যাম্পিং প্যাড, দুটি স্লিপার, আর্টিফিশিয়াল টানেল, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বৈদ্যুতিক খুঁটি (আরসিসিসি ঢালাই) ইত্যাদি। ২০১৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় সংস্থাটি। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক মো. লিয়াকত আলী খান খাতা-কলমে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে প্রকল্প শেষ দেখিয়ে রিপোর্ট দেন। এসব কারণে প্রকল্প দুটিকে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যা তদন্ত করছে দুদক।

আরও পড়ুন