প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে অস্ত্রসহ চরমপন্থী ধরা

আপডেট: 08:39:17 09/02/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে অস্ত্র-গুলিসহ পুলিশের হাতে কুমারেশ মল্লিক (২৮) ও হীরামন শিকদার (৩৬) নামে দুই চরমপন্থী সদস্য আটক হয়েছেন।
রোববার ভোররাত চারটার দিকে অভয়নগর উপজেলার আন্দা গ্রাম থেকে তাদের আটক করে থানা পুলিশ। আটক দুইজন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, আন্দা গ্রামের গ্রামপুলিশ সদস্য আজমত আলী অভয়নগর থানায় সংবাদ দেন- চরমপন্থী সংগঠনের দুই সদস্য একই গ্রামের সন্ত্রাসী আদিত্য রায়ের বাড়িতে অস্ত্র, গুলি রেখে গেছে। এরপর পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য কুমারেশ মল্লিক ও হীরামনকে আটক করে। এরপর তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে আদিত্য রায়ের বাড়ির ধানের গোলা থেকে দুটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, আটক দুইজন জানিয়েছেন, তাদের নেতা দীপংকর বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে অবস্থান করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি নামে একটি চরমপন্থী সংগঠনের পরিচয় দিয়ে মাছের ঘের দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি করে আসছেন। আদিত্য রায় একই সংগঠনের সদস্য হলেও তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। গত পয়লা ফেব্রুয়ারি মণিরামপুর উপজেলার সমলডাঙ্গা বিলের পানি সেচের ইজারাদার মনিরুজ্জামান ও তার সহযোগীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় দীপংকর গ্রুপের লোকজন। ওই ঘটনায় পুলিশ দীপংকরের সহযোগী দেবু মেম্বারসহ ছয়জনকে আটক এবং তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করে। দীপংকর এ মামলায় আদিত্যকে ফাঁসিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা করেন। এরপর কুমারেশ ও হীরামনের মাধ্যমে আদিত্যের কাছে অস্ত্র রাখতে পাঠান। আদিত্য অস্ত্র নিলেও বিপদ আঁচ করতে পেরে লোকমারফত বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে দেন। এরপর পুলিশ কুমারেশ ও হীরামনকে আটক এবং অস্ত্র, গুলি উদ্ধার করে।
এদিকে, পুরো ঘটনা জানার পর ডিবি পুলিশ চরমপন্থী সদস্য আদিত্য রায়কে ধরতেও অভিযান শুরু করেছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
আটক কুমারেশ অভয়নগর উপজেলার আন্দা গ্রামের সমীর মল্লিকের ছেলে ও হীরামন একই এলাকার জগদীশ শিকদারের ছেলে।

আরও পড়ুন