প্রতিবন্ধী বিপ্লবের স্বপ্নপূরণ করলো পল্লীবিদ্যুৎ

আপডেট: 07:42:03 31/01/2021



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : দিনমজুরি করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালোই কাটছিল বিপ্লবের। স্বপ্ন ছিল টাকা জমিয়ে খুপরি ছেড়ে ইটের ঘরে ওঠার। কিন্তু বিপত্তি ঘটে দুই বছর আগে। আম পাড়তে উঠে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় বিপ্লবের। জমানো টাকাসহ হাট-বাজার থেকে সাহায্য নিয়ে চার লাখ টাকা খরচ করেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হলো না তার। দুই পা অকেজো হয়ে হুইল চেয়ারে বন্দি হয় যুবক বিপ্লবের জীবন।
ইটের ঘরের আশা দূরাশা হলো বিপ্লবের। ভিক্ষাকে পেশা হিসেবে নিতে না পেরে দুই হাজার টাকায় বাড়ির মোড়ে চা-পানের দোকান বসান তিনি। স্ত্রী জোহরা বেগমও ধরেন সংসারের হাল। রাস্তায় সরকারি কর্মসূচির কাজ করেন তিনি। স্কুলপড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে এভাবে দিন কাটছে তাদের।
হঠাৎ একদিন বিপ্লবের বাড়িতে হাজির যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, মণিরামপুর সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা। বিপ্লবের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দুই শতক ভিটেয় নিজেদের অর্থায়নে সেমি পাকাঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তারা। সেই অনুযায়ী এক লাখ ৭২ হাজার টাকায় সংযুক্ত টয়লেট, রান্নাঘর ও বারান্দাসহ রঙিন টিনের দুই কক্ষের ইটের ঘর নির্মিত হয়েছে বিপ্লবের ভিটেয়। ঘর পেয়ে হাসি ফুটেছে বিপ্লবের মুখে।
বিপ্লব মণিরামপুর উপজেলার নাগোরঘোপ গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলাম পাটোয়ারীর ছেলে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী অরুণকুমার কুণ্ডু বলেন, 'ইউএনও অফিসের সহায়তায় বিপ্লবের খোঁজ পাই। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের গৃহপ্রদান কর্মসূচির আওতায় আমাদের ১৭ জন কর্মকর্তা নিজেদের অর্থায়নে এক লাখ ৭২ হাজার টাকায় তাকে একটি ঘর করে দিচ্ছি। দ্রুত ঘরটি হস্তান্তর করা হবে।' সমাজের বিত্তবানদের এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান এই কর্মকর্তার।
বিপ্লব বলেন, 'আমগাছ থেকে পড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। দুই বছর চারমাস ধরে ভুগছি। দুই পা অকেজো হওয়ায় এখন হুইল চেয়ারে চলাফেরা করি। বংশে কেউ ভিক্ষুক ছিল না। তাই সেই কাজ করতি পারিনি। বাড়ির সামনে একটা দোকান দিছি। ওতে দিন চলে যাচ্ছে। বাঁশের খুঁটি আর টিনের বেড়ার ঘরে কষ্টে থাকিছি। ইটের ঘরে ঘুমাবো ভাবতি পারিনি। পল্লী বিদ্যুতের স্যারেরা আমারে ঘর দিছে। আমি এখন সুখে আছি।'

আরও পড়ুন