প্রতি মণ লিচুর মধু দশ হাজারে বিক্রি করেন পিয়ারুল

আপডেট: 07:58:40 13/03/2021



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নে রয়েছে শতাধিক লিচুবাগান। ফাল্গুন মাসের শুরুতে প্রতিটি লিচুগাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। ইতিমধ্যে ফুল পরিপূর্ণ হওয়ায় অনেক বাগানে লিচুফুল থেকে মধু সংগ্রহে বক্স স্থাপন করেছেন মৌয়ালরা। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
সরেজমিন হাজরাপুর গ্রামের আবু তাহেরের লিচুবাগানে গিয়ে কথা হয় ইছাখাদা গ্রামের মৌ চাষি পিয়ারুলের সাথে। তিনি বলেন, 'আমি ২০১০ সালে সাতটি মৌ-বক্স নিয়ে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করি। মধু সংগ্রহের জন্য আমাকে মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়। আমি সর্ষেফুল, ধনেফুল, কালো জিরার ফুল ও লিচুফুল থেকে মধু সংগ্রহ করি। যে মৌসুমে যে ফসলের চাষ হয়, আমি সেই ফসল থেকে মধু সংগ্রহ করি। পাশাপশি খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে সুন্দরবন থেকেও মধু সংগ্রহ করি।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানে কাজ করছি এই হাজরাপুর গ্রামে। আবু তাহেরের এ লিচুবাগানটি ৩৩ শতক জমিতে। এখানে প্রতিটি লিচুগাছে খুব ভালো ফুল এসেছে। ফুল পরিপূর্ণ হওয়ায় তা থেকে মধু সংগ্রহ করছি। এ বাগানে ৫২টি মৌ-বক্স রয়েছে। আটদিন পর পর আমি মৌ-বাক্সগুলো খুলি এবং তা থেকে ৪-৫ মণ মধু সংগ্রহ করি। প্রতি মণ মধু বর্তমানে দশ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।'
তিরি আরো বলেন, 'বাংলাদেশের ৩৩ জেলা থেকে পাইকাররা আমার কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, নরসিংদী, গাজীপুর জেলায় মধু আমরা বেশি পাঠাই।'
কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ''পুরো মার্চ মাস ধরেই লিচুফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা যায়। এ মধু সাদা এবং খুবই পুষ্টিকর। প্রতি বছর মৌ চাষ করে আমার খরচ বাদে পাঁচ লাখ টাকা আয় হয়। কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নিজের অর্থে গড়ে তুলেছি 'মৌ-বন মধু খামার।''

আরও পড়ুন