প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট: 10:48:14 29/07/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘অনেকে ঘরে বসে বসে টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে দিয়ে সমালোচনা করেন। আমরা দেখি ঘরে বসে ওনারা উঁকি দিয়ে দিয়ে বলছেন। ঘর থেকে বের হন না। এই করোনাকালে একদিনও বসে ছিলাম না। প্রতিদিন আমি কাজ করেছি। অনেকে কাজ করেছেন। আমরা জানি যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যে কোনো সময় মৃত্যু হতে পারে। তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকার শিক্ষা আমাদের নেত্রী আমাদের দেননি। নেত্রীও বসে নেই। তিনি কাজ করছেন। আর ওনারা, বিএনপির নেতারা টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে দিয়ে কথা বলছেন। জনগণের পাশে নেই।’
বুধবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে খুলনা বিভাগের সাংবাদিকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যুর হার পৃথিবীতে সর্বনিম্ন যে কয়টি দেশ, তার মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। করোনা বাংলাদেশে পাঁচ মাস এসেছে। তবে একটি মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে। কারো মধ্যে খাদ্যের জন্য কোনো হাহাকার নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিক ভাই-বোনরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। পুলিশ বাহিনী উদাহরণ তৈরি করেছে। সেনাসদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তার-নার্সরা তো আছেনই। এভাবে যারাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেভাবে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের করোনাকালীন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, আশেপাশের কোনো দেশে দেওয়া হচ্ছে না। ভারতেও দেওয়া হচ্ছে না। নেপালে দেওয়া হচ্ছে না, পাকিস্তানেও দেওয়া হচ্ছে না। এই সহায়তা আরো সাংবাদিকদের পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন সাংবাদিকদের আরো একটি গ্রুপ আছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে লেখে, সরকারের বিরুদ্ধেই বলে। কিন্তু সরকার সবার জন্য; যিনি সরকারকে সমালোচনা করেন তার জন্যও। সরকার সবার জন্য, রাষ্ট্র সবার জন্য- সেটা মাথায় রেখেই তাদেরকে বলছি, তারা যেন যোগাযোগ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে সহায়তা করা হবে, সেটি সবার জন্য করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সমালোচনা কাজ করার ক্ষেত্রে সহায়ক। অন্ধ সমালোচনা বা একপেশে সমালোচনা সহায়ক নয়। সমালোচনা ভুল-ত্রুটি সংশোধন করার ক্ষেত্রে সহায়ক। তাই যারা সমালোচনা করেন, তাদের আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই, আপনারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, কিন্তু অন্ধ এবং বধিরের মতো সমালোচনা করবেন না। সমালোচনা করুন। আমরা সমালোচনা সহ্য করার সংস্কৃতি লালন করি। প্রধানমন্ত্রী লালন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সেটা লালন করে।’
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজনে ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, যশোর জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোহম্মদ মাহবুব আলম, বিএফইউজের সহসভাপতি মনোতোষ বসু, যুগ্ম মহাসচিব সাকিরুল কবীর রিটন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিলন রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান।
অনুষ্ঠানে যশোরের ৪৮ জনসহ খুলনা বিভাগের নয় জেলার ৩৩৮ সাংবাদিককে দশ হাজার টাকা করে চেক দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন