প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীর বিপুল টাকা গয়না হাপিস!

আপডেট: 03:05:09 27/06/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : প্রেমের ফাঁদে ফেলে যশোরের মণিরামপুর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এক প্রবাসীর স্ত্রীকে। সুদূর উত্তরাঞ্চল থেকে তাকে উদ্ধার করে এনেছে ডিবি পুলিশের একটি টিম।
আটক করা হয়েছে অপহরণে জড়িত স্থানীয় এক মেম্বারসহ তিনজনকে। উদ্ধার হয়েছে ১৬ লাখ টাকা ও দুই ভরি ওজনের সোনার গয়না।
বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ধামাচামা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অপহৃতাকে উদ্ধার ও আসামিদের আটক করা হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার ধামাচাপা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে জুয়েল আহমেদ, একই গ্রামের ইউপি মেম্বার আলমগীর হোসেন ও তার ভাই মামুন উর রশিদ।
যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহমেদ জানান, মণিরামপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের প্রবাসী হাফিজুর রহমান গাজীর স্ত্রী রিমা খাতুনের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার ধামাচাপা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা। হাফিজুর-রিমা দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। গত ১ জুন আকস্মিক নিখোঁজ হন রিমা খাতুন। পরে তার পরিবারের লোকজন জানতে পারে সোহেলের ব্যবস্থাপনায় তার ছোটভাইসহ কয়েক সহযোগী মণিরামপুর এসে রিমাকে মাইক্রোবাসযোগে নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় রিমা তার স্বামীর পাঠানো ৩৬ লাখ টাকা ও ১২ ভরি ওজনের সোনার গয়না নিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ১৬ জুন রিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মণিরামপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন।
ওসি মারুফ আহমেদ আরো জানান, পরে মামলাটির তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম ও আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ভোরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ধামাচাপা গ্রামের সোহেল রানার ভাই জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রিমা খাতুনকে উদ্ধার করে ডিবির একটি টিম। একইসঙ্গে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আলমগীর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ টাকা ও দুই ভরি সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়। ওই সময় গৃহবধূকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত জুয়েল আহমেদ, স্থানীয় মেম্বার আলমগীর হোসেন ও মামুন উর রশিদ নামে তিনজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতানোর উদ্দেশে রিমা খাতুনকে কৌশলে বগুড়া নিয়ে তাকে আটকে রাখে।
ওসি মারুফ আহমেদ আরো বলেন, শুক্রবার বিকেলে রিমা খাতুন ও আটক তিন আসামিকে যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় রিমা খাতুন দণ্ডবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়া আটক তিনি আসামি আদালতে ‘অপহরণের’ দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত রিমা খাতুনকে তার পরিবারের হেফাজতে দেন এবং আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন