বছর না ঘুরতেই সড়ক বেহাল

আপডেট: 01:48:10 07/02/2020



img
img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : সংস্কারের এক বছর পার হতে না হতেই যশোর-বাঘারপাড়া সড়কের বোলদেঘাটা-দোরাস্তা অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। সংস্কারের পরপরই ভাঙন ধরতে শুরু করেছে রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায়। রাস্তার মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত। অনেক জায়গায় দেবেও গেছে। ফেটে চৌচির হয়ে গেছে বিভিন্ন স্থান।
ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ কাজই এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বাঘারপাড়া এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর-বাঘারপাড়া সড়কের দোরাস্তা-বোলদেঘাটা অংশের সর্বশেষ সংস্কার কাজ হয় গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শেষ দিকে। এলজিইডির পল্লী অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের এ কাজটি পান ফরিদপুরের সালেহ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৫.১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যয় হয় তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা। নির্মাণে ত্রুটি থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কটির কয়েকটি স্থান দেবে গিয়ে ভয়াবহ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ রাস্তায় চলাচলকারীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পুখুরিয়ায় খলিলুর রহমানের বাড়ির সামনে, কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে দেবে গেছে।
নসিমন চালক ইমদাদ হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আমরা নিয়মিত যাতায়াত করি। কিন্তু বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হয়।’
একই কথা বলেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আজগার আলী। অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তাটা পুরোপুরি কোনোদিন ভালো পেলাম না। নতুন রাস্তা করার কয়েকদিন পর দেবে যায়, না হয় ভেঙে যায়।’
এ রাস্তায় নিয়মিত মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করেন বাঘারপাড়ার বাসিন্দা রেহমান জেমাম। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি দেবে গিয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন বাবলু জানান, এক মাস আগে থেকে রাস্তাটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকদিন আগে যশোর-নড়াইল সড়কের আয়াপুরে ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলাকালে এ বাইপাস সড়ক দিয়ে বড় বড় গাড়ি চলাচল করেছে। যে কারণে সড়কটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ করেননি বলে অভিযোগ করেন এই চেয়ারম্যান।
বাঘারপাড়া এলজিইডি অফিসের সাবেক উপসহকরী প্রকৌশলী (রাস্তাটি নির্মাণের সময় তদারকির দায়িত্বে ছিলেন) রবিউল ইসলাম বলছেন, ঠিকাদার কাজ খারাপ করেননি। এ সড়কের ধারনক্ষমতা সর্বোচ্চ দশ টন। কিন্তু ২৫ থেকে ৪০ টন লোড নিয়ে বড় বড় গাড়ি চলাচল করায় রাস্তা খারাপ হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। যতটুকু জেনেছি এ রোডের ক্যাপাসিটি দশ টন। কিন্তু যাতায়াত করছে ৩০ থেকে ৫০ টনের গাড়ি। সেকারণে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। এই অর্থবছরে সুযোগ নেই, পরবর্তী অর্থবছরে কিছু করা যায় কি-না চেষ্টা করবো।’

আরও পড়ুন