বদলে গেছে শিশু ফাহিমের জীবন

আপডেট: 07:13:56 12/10/2021



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কথোপকথনের ভিডিও আমূল বদলে দিয়েছে ফাহিমের জীবন।  
অসুস্থ বাবার কারণে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম (১০) ফের নিয়মিত হয়েছে স্কুলে।  
তার পড়াশুনার খরচ বহন করছেন স্থানীয়রা; প্রতিশ্রতি রয়েছে আরও। ইতোমধ্যে তাকে কিনে দেওয়া হয়েছে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলম, সহায়ক বই ইত্যাদি। অসুস্থ বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নগদ টাকাও।  
মণিরামপুরের উত্তর লাউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ফাহিম। বাবা রোস্তম আলী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন তিনি। বাবার অসুস্থতার কারণে ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরে ছোট্ট ফাহিম।
দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুল খোলায় প্রতি শনিবার ক্লাসে হাজির হয় ফাহিম। বাকি দিনগুলো বাবাকে সংসারের কাজে সহযোগিতা করে।
সম্প্রতি ফাহিম নিজে ভ্যান চালিয়ে বাবাকে মণিরামপুর বাজারে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যায়। ডাক্তারের কক্ষে বাবাকে রেখে ভ্যানে যাত্রীর খোঁজে বেরিয়ে পড়ে সে। যাত্রী না পাওয়ায় রাস্তার পাশে ভ্যান রেখে অপেক্ষায় ছিল ফাহিম।
স্কুল ড্রেস পরে ভ্যানের ওপর বসে থাকা ছোট্ট ছেলেটি নজর কাড়ে মণিরামপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের। উৎসুক মনে তিনি কাছে যান শিশুটির। এরপর শিশুটির সাথে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে আপ করেন। তাকে ফের স্কুলে নিয়মতি করতে তৎপর হন। পাশাপাশি অন্যের সহযোগিতাও চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া পড়ে। কয়েকজনের সহায়তায় শিশুটিকে একটি স্কুলব্যাগ, গাইড ও খাতা-কলম দেওয়া হয়। সাথে তার বাবার হাতে তুলে দেন তিন হাজার ৮০০ টাকা।
ফেসবুকে দেওয়া এই পোস্টটি নজর কাড়ে উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান মিন্টুর। শিশুটির খোঁজ নিতে তিনি যান উত্তর লাউড়ির বাড়িতে। পরিবারের সাথে কথা বলে শিশুটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন আসাদুজ্জামান মিন্টু। পরিবারটির হাতে তুলে দেন নগদ পাঁচ হাজার টাকা; অনুরোধ করেন- ছেলেটিকে যেন তারা স্কুলে পাঠান।  
শিক্ষক আজাদের এক সপ্তাহের চেষ্টায় শিশু ফাহিমের জীবনের চিত্র পাল্টেছে। এখন সে আর ভ্যান চালায় না। নিয়মিত স্কুল এবং বই নিয়ে কাটে তার সময়। তিনি বলেন, শিশুটিকে এক বছরের লেখাপড়ার উপকরণ দিয়েছি। তার মায়ের সাথে কথা হয়েছে। ছোট্ট ছেলেটি ভ্যান টানে বলে মা ফাতেমা বেগমের মনেও বেশ কষ্ট। সহায়তা পেয়ে তিনিও খুশি।
আজাদ বলেন, ‘শিশুটির প্রতিমাসের প্রাইভেট পড়ার খরচ আমি দেবো। তবুও চাই সে যেন স্কুল না ছাড়ে।’
আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘ফাহিম যেন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে, সেই ব্যাপারে তার পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। যেকোনো প্রয়োজনে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছি।’
ফাহিমের বাবা রোস্তম আলী বলেন, ‘সংসারে চারজন। বড় ছেলে রাস্তায় কাজ করে। আমি অসুস্থ হওয়ায় ছোট ছেলেটা মাঝেমধ্যে ভ্যান চালায়। অনেকে সাহায্য করছেন। আরো করবেন বলেছেন। যেভাবে সবাই সাহায্য করছেন তাতে ছেলেটা মানুষ হতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন থেকে সে আর ভ্যান চালাবে না। নিয়মিত স্কুলে যাবে। যত কষ্টই হোক, ছেলের হাতে আর ভ্যান দেবো না।’
শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। দুই-এক দিনের মধ্যে আমি ওই বাড়িতে যাব।’