বনগাঁয় খুন হওয়া নারীর প্রেমিককে ধরলো পুলিশ

আপডেট: 07:44:01 31/05/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : পরকীয়া প্রেমিকা আসমাকে ভারতে খুন করে বাংলাদেশে ছদ্মবেশ ধারণ করা আবুল কাসেম (৫১) নামে এক ড্রাইভারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিবি) সদস্যরা। 
হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ মাস পর ৩০ মে ভোর তিনটার দিকে যশোর ডিবির একটি দল কৌশলে ঢাকার পল্লবী থেকে তাকে গ্রেফতার করে । একইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ভিকটিমের মোবাইল ফোন ও তার পাসপোর্ট।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম এই তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, যশোর শহরের পুরাতন কসবা আরবপুর পাওয়ার হাউজপাড়া এলাকার শাহানুর ইসলামের স্ত্রী আসমা থাকতেন নওদাগ্রামে মঞ্জু নামে এক শিক্ষকের বাড়িতে। ১৫ জানুয়ারি আসমা ও তার খালা মনোয়ারা বেগম (৫৫) ভারতে চিকিৎসার জন্যে যান। তারা সেদেশের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়ে একটি হোটেল (শ্যামাপ্রসাদ লজ) এ অবস্থান করেন। পরদিন সকালে হোটেলের তালাবদ্ধ কক্ষে আসমা ইসলামের মৃতদেহ পাওয়া যায়। বনগাঁ থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় বনগাঁ থানায় একটি মামলাও হয় (যার নম্বর-৩৩ /১৬.০১.২০২০)।
আসমার স্বজনরা বনগাঁ থানা থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। তার ভাই আজিম উদ্দিন গত ৩০ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কাশেমের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে যশোর কোতয়ালী থানায় মামলা (নম্বর -০৯/০৫.০২.২০২০, ধারা-৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪) নথিভুক্ত হয়। মামলাটি গত ১৪ মে পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
এরপর তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক সোমেন দাসের নেতৃত্বে এসআই মফিজুল ইসলামসহ ছদ্মবেশী একটি দল ৩০ মে রাত তিনটার দিকে ঢাকার মিরপুর পল্লবী বাউনিয়াবাদ বস্তি বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে তারা কাশেমকে গ্রেফতার করেন। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আসমা ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঢাকার মানিকনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসমার সঙ্গে ড্রাইভার পরকীয়া প্রেম ও অবৈধ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন কাশেম। পরকীয়ার কারণে ২০১৩ সালে আসমাকে তার স্বামী শাহানুর তালাক দেন। কিন্তু আসমা তার স্বামী শাহানুরের সঙ্গে আবার ঘর-সংসার করার সিদ্ধান্ত নিলে কাশেম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং একপর্যায়ে ভারতে নিয়ে হোটেলে হত্যা করে।
কাশেম শহরের পুরাতন কসবা গাজীরঘাট রোড এলাকার বশির মিয়ার ছেলে।

আরও পড়ুন