বাঘারপাড়ায় লবণের বাজার অস্থির

আপডেট: 08:18:10 19/11/2019



img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : পেঁয়াজের চড়া ঝাঁজের পর এবার যেন লবণের পালা। লবণের দাম বাড়ার গুজবে হঠাৎই বিক্রির হিড়িক পড়েছে বাঘারপাড়ায়।
সাধারণ মানুষ লবণের দাম বাড়ার খবরে বাজারে ছুটছেন। খুচরা লবণ কেজি প্রতি দশ থেকে ৩৫ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। তবে প্যাকেটজাত লবণ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি দামে।
উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের খানপুর বাজার থেকে মঙ্গলবার বিকেলে ৩০ টাকা দরে চার কেজি লবণ কিনেছেন ভ্যানচালক ওহিদুর রহমান।
একই বাজার থেকে বিদ্যুৎ মিস্ত্রি রিপন হোসেন মোট ১২ কেজি লবণ কিনেছেন। প্রথমে চার কেজি ৩০ টাকা ও পরে আট কেজি ২০ টাকা দরে লবণ সংগ্রহ করেছেন তিনি।
খানপুর বাজারের মুদিদোকানী মরিরুর ইসলামের কাছ থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাফিজুর রহমান দুই কেজি লবণ কিনেছেন ১০০ টাকায়। এর আগে বিকেল থেকে মনিরুল ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে লবণ বিক্রি করে আসছিলেন বলে তিনি সেই সময় জানিয়েছিলেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লবণ কেনার হিড়িক চলছিল খানপুর বাজারে।
উপজেলার খাজুরা বাজারেও খুচরা লবণ বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক দামে। এখানে ১৬ টাকার লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। দাম বাড়ার কারণে এ বাজারের দোকানিদের সঙ্গে বচসাও হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারের চালহাটখোলার রনির দোকান থেকে এক নারী ১৬ টাকা কেজি দরের তিন কেজি লবণ কেনেন ৭৫ টাকায়। পরে গুজবের ওপর ভিত্তি করে লবণের দাম বাড়ানো হয়েছে- এমন খবর জানতে পেরে ওই নারী লবণ ফেরত দিতে যান। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বচসা শুরু হয়।
বাঘারপাড়া উপজেলার চাড়াভিটা, নারিকেলবাড়িয়া, ছাতিয়ানতলা বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানেও অস্বাভাবিক দামে লবণ বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে রাত সাতটার দিকে খাজুরা বাজারের স্বরূপ দত্তের গোডাউন থেকে ৫০ কেজির পাঁচ বস্তা লবণ পাচারের উদ্দেশ্যে বের করা হয়। এ সময় পুলিশ দেখে লবণের বস্তা ফেলে পালিয়ে যান দোকানি।
খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের টুআইসি সুবেন্দ্রকুমার পাল লবণ জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্বরূপ দত্তের গোডাউন থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০ বস্তা লবণ বিক্রি হয়। হয়তো প্রতিদিনের বেচাকেনার অংশ হিসেবে ওই লবণ কিনতে এসেছিল কেউ। দিনের বেলা কয়েকজন ব্যবসায়ী একটু বেশি দামে লবণ বিক্রি করেছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে স্থানীয় বাজারে টহল দেওয়া হচ্ছে। কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
তবে খুচরা লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশিতে।
লবণের দাম বাড়ার গুজবে যাতে কেউ সুবিধা না নিতে পারে, সেজন্য সজাগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।
ধলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তার এলাকা ধলগ্রাম বাজারে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়েছিল। পরে তিনি বাজার ব্যবসায়ীদের বেশি দামে লবণ বিক্রি না করার নির্দেশ দেন।
বাঘারপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন জানান, উপজেলা সদরের কোথাও লবণের দাম বৃদ্ধি পায়নি। মৌখিকভাবে দোকানিদের সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার সকালে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিষয়টি জানানো হবে।
এ ব্যাপারে আর কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজের সেল ফোনে রিং করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন