বালু হত্যা মামলার বিস্ফোরক অংশে পাঁচজনের যাবজ্জীবন

আপডেট: 06:34:57 18/01/2021



img

খুলনা অফিস : একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর বিস্ফোরক অংশের রায় সোমবার (১৮ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ে পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. সাইফুজ্জামান হিরো। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে দশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) শীর্ষনেতা সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাধীন, নজুল ওরফে রিপন ওরফে নজরুল ইসলাম ওরফে খোড়া নজরুল, মাসুম ওরফে জাহাঙ্গীর (পলাতক), রিমন ওরফে আসাদুজ্জামান এবং জাহিদ হোসেন ওরফে সবুজ ওরফে জাহিদুর রহমান।
২০০৪ সালের ২৭ জুন আততায়ীদের বোমা হামলায় হুমায়ুন কবির বালু নিহত হন।
২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম শিকদার সাংবাদিক বালু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনি সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল- জনযুদ্ধ) প্রধান আব্দুর রশিদ মালিথা ওরফে দাদা তপন, ইকবাল হোসেন ওরফে স্বাধীন, জাহিদুর রহমান ওরফে সবুজ, রিমন, নজরুল ইসলাম ওরফে খোড়া নজু, নাজিম উদ্দিন এবং মাসুম।
রায়ে বিচারক পুলিশের দুর্বল প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক বিস্ফোরক মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। ‘হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দুটির মধ্যে ব্যাপক গড়মিল থাকায়’ ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন বলে তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন।
২০ এপ্রিল বিচারক মোহাম্মদ সেকান্দার আলী মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। ১০ মে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে শুনানি শেষে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ জুন মামলার নথি গ্রহণ করেন। অধিকতর তদন্তে আসা সাংবাদিক শহীদ হুমায়ুন কবির বালু হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক অংশের মামলাটি বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহাদত হোসেন সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম মঞ্জুর আহমেদ ও চৌধুরী তৌহিদুর রহমান তুষার।

আরও পড়ুন