বাল্যবিয়ে : পাঁচজনকে জেল দিলেন বাঘারপাড়ার ইউএনও

আপডেট: 08:17:02 21/11/2019



img

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আফরোজের আদালত বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ও অপর একটি বাল্য বিয়ের আয়োজন করার অপরাধে পৃথকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে মোট পাঁচজনকে জেল দিয়েছেন।
বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শালবরাট গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের অনাথ দেবনাথের ছেলে অসীম দেবনাথের বিয়ের আয়োজন করে ওই ছাত্রীর পরিবার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওসি জসীম উদ্দীনকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের আসরে হাজির হন। তিনি বাল্যবিয়ে আয়োজন করার অপরাধে কনের ঠাকুরদা মনোরঞ্জন দেবনাথ ও মা সুনিতারানিকে আটক করেন। এ খবর ছেলে পক্ষের কাছে পৌঁছালে তারা বরযাত্রী নিয়ে মাঝ পথ থেকে বাড়ি ফিরে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭-এর ৮ ধারায় মনোরঞ্জনকে) এক মাস ও মেয়ের সুনিতাকে সাতদিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আফরোজ।
এদিকে, একই দিন বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের ঠাকুরকাঠি গ্রামে বাল্যবিয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ। তারা পৌঁছানোর আগেই বর পক্ষ বউ নিয়ে চলে যায়। এ সময় তারা জানতে পারেন, নড়াইল সদর উপজেলার চাঁচড়া বিলপাড়ার নূর ইসলামের ৩৮ বছরের ছেলে হোসেন আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় ঠাকুরকাঠি গ্রামের সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশুর। ওই সময় বাল্যবিয়ে দেওয়ার অপরাধে কনের বাবা সাহেব আলীকে আটক করা হয়। আর বাল্যবিয়েতে সহযোগিতার অভিযোগে আটক করা হয় একই গ্রামের মৃত ছবদেল মোল্যার ছেলে মনিরুল ইসলাম ও সালাম শেখের ছেলে সাজ্জাদ হোসেনকে। বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আফরোজের আদালত কনের বাবাকে এক মাস ও বাল্যবিয়েতে সহযোগিতার অভিযোগে মনিরুল ও সাজ্জাদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্তদের বৃহস্পতিবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ বলেন, ‘মনিরুল ও সাজ্জাদের বাল্যবিয়েতে সহযোগিতার বিষয় নতুন নয়। অভিযোগ রয়েছে এর আগেও তারা (মনিরুল ও সাজ্জাদ) একাধিক বাল্যবিয়েতে সহযোগিতা করে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে।’
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান ইউএনও।

আরও পড়ুন