বিআরটিএ’র ফিস জমায় গ্রাহক হয়রানি

আপডেট: 08:40:59 05/11/2019



img

শহিদুল ইসলাম দইচ : বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ’র ফিস জমা দেওয়া নিয়ে যশোরে পাঁচটি ব্যাংকে ব্যাপক হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।  কাগজ-কলমে সরকারি ফি নেওয়ার বিধান থাকলেও ব্যাংক কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে দিনের পর দিন গ্রাহকদের ঘোরাচ্ছেন। ফলে গ্রাহকদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে আর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
তবে, ব্যাংক কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন যশোরের জেলা প্রশাসক।
যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ, পূর্ববারান্দীপাড়ার মনির হোসেন, মোল্লাপাড়ার খলিলুর রহমান রাজ, সদর উপজেলার ভগবতীতলার জামাল হোসেন, একই উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের জাকির হোসেন এবং বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার আবু মুছাসহ অনেকেই সুবর্ণভূমিকে বলেছেন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স এবং টোকেন ফি দিতে বিআরটিএ অফিসে এলে তারা চালানের কাগজ দিয়ে টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে আসতে বলে। এরপর বিআরটি ‘র সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক,  আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ওয়ান ব্যাংকে যেতে হয় টাকা জমা দিতে। গ্রাহকদের তখন এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে পাঠান সেইসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এভাবে গ্রাহকরা চরকির মতো ঘুরতে থাকেন এ ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকে। এভাবে দিনের পর দিন পার হয়ে গেলেও কোনো কাজ হয় না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে এভাবে ঘোরায়। টাকা জমা দেওয়ার এমন হ্যাপার কারণে অনেকেই বিমুখ হয়ে ফিরে যান।
অবশ্য দালালদের মাধ্যমে গেলে হয়রানি হতে হয় না, কাজও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়ে যায় বলে তারা দাবি করেন।
তবে এই প্রতিবেদক মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে তালিকাভুক্ত প্রায় সবক’টা ব্যাংকে যান। কিন্তু বেশিরভাগ শাখায় টাকা জমা দিতে গ্রাহকদের তেমন কোনো লাইন চোখে পড়েনি। শুধুমাত্র এনআরবিসি ব্যাংকে গ্রাহকদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে।
জানতে চাইলে যশোর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক কাজী মো. মুরসালিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘গ্রাহকরা মূলত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স এবং টোকেন ফিস জমা দিতে যান। শুনেছি ব্যাংকে টাকা জমা নিতে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হন। কিন্তু এটি বিআরটিএ’র বিষয় না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে কোনো দালাল নেই।
এ বিষয়ে শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মো. সাইদুর রহমান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমরা বিআরটিএ’র সাথে চুক্তিবদ্ধ। টাকা জমা নিলে আমাদেরই লাভ। তাই, টাকা জমা না নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে, ওয়েবসাইটে ঢুকতে সমস্যা হলে তখন কিছু করার থাকে না।’
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার সালাউদ্দিন আহম্মেদ সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘টাকা জমা না নেওয়ার অভিযোগ ঠিক না। এই টাকায় তো আমাদের ব্যবসা হয়। মাঝে মাঝে সার্ভারের সমস্যার কারণে বিলম্ব হয়মাত্র।’
ওয়ান ব্যাংকের ম্যানেজার দেবাশীষ পাল বলেন, ‘বিআরটিএর টাকা জমা নেওয়ার জন্য আমাদের হেড অফিসের টার্গেট দেওয়া থাকে। আমরা বসে আছি ওই টাকা নিতে। সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে যে কেউ টাকা জমা দিতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই।’
এনআরবিসি ব্যাংকের ম্যানেজার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিআরটিএর ফিসের ৯০ শতাংশ আমরাই গ্রহণ করি। তবে সমস্যা হচ্ছে, একসাথে ৭-৮টা কাগজের টাকা জমা দিতে আসেন অনেকেই। অনেক সময় দেখা যায়, লাইনে লোক দাঁড়িয়ে, কিন্তু বিআইটিএর সার্ভার কাজ করছে না। তখন অনেকেই ফিরে যান। আমরা আন্তরিক হলেও আসলে করার কিছুই থাকে না।’
ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজার কমলকুমার নন্দি বলেন, ‘টাকা জমা নিলে আমাদের ব্যাংকেরই লাভ। বিআরটিএর সার্ভারে অনেক সময় ঝামেলা হয়; তখন কিছু সমস্যা হয়।’
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, ‘এ রকম ঘটনা আমার জানা নেই। বাইরে অভিযানে আছি, পরে এ বিষয়ে কথা বলব।’
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘বিআরটিএর সাথে কোন কোন ব্যাংকের চুক্তি আছে, এডির সাথে কথা বলে জেনে নেব। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন