বিএনপির দুই নেতাকে ‘দেউলিয়া’ বললেন জহুরুল

আপডেট: 06:52:48 21/07/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, দলের উপজেলা শাখার দুই যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুচ আলী ও এমএ সালাম রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির কাঁচা বাজারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুতে লাশের মিছিল, আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। আমরা যখন মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে চাইতে দিশেহারা, ঠিক সেই সময়ে ১৮ জুলাই চৌগাছা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুচ আলী ও এমএ সালাম মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন প্রতারণামূলক একটি সংবাদিক সম্মেলন করে চৌগাছাবাসীসহ সমস্ত জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। আমার ইচ্ছা না থাকলেও দেশের এই ক্রান্তিকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছি।’
উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘যশোর জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চৌগাছা উপজেলা কমিটি গঠনের লক্ষে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি গঠনে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আমার এবং ইউনুচ আলীর যৌথ স্বাক্ষরে ২৭ ডিসেম্বর তারিখে উপজেলা সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি/সম্পাদক সাহেবকে পত্র দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে বিকেল তিনটায় কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়।’
তিনি বলেন, ‘‘কমিটি গঠনের সভার শুরুতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের বিভিন্ন আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত স্বাক্ষরিত ৪৯ জন সর্বসম্মতিক্রমে একমত হন। ভোটাররা প্যানেল প্রধানকে দিয়ে প্যানেল বোঝাতে পারেন আবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম লিখে ভোট দিতে পারেন। ভোটাররা উভয় পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করেছেন। ভোটের ব্যালটে ইউনুচ আলী স্বাক্ষর করেছেন। ভোট শেষে গণণার পর ফলাফল ফর্দতে আমি ও ইউনুচ আলী স্বাক্ষর করি। যে ভোটার লিখতে পারেন না সেই ভোটারের কিছু ভোট আমি সালাম সাহেবকে নিয়ে শুনে দিয়েছি এবং বাকি ২-১টি ভোট মাসুদুল হাসান (উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান) ও এমএ সালাম আমার অনুমতি নিয়ে দিয়েছেন। ‘আমি আমার ইচ্ছামতো নিজের প্রার্থীর পক্ষে লিখেছি’ কথাটি নিলর্জ্জ মিথ্যাচার। জেলা বিএনপির তদন্ত কমিটি আমার হাতের লেখা পরীক্ষা করে দেখেছেন। আমার লেখা ভোট অধিকাংশ ইউনুচ আলীর পক্ষের প্রার্থী তার বেয়াই (ভাতিজার শ্বশুর) কাজী আব্দুল হামিদ পেয়েছেন। ব্যালট সংরক্ষিত আছে। উভয় পক্ষকে ফলাফল ফর্দ দেওয়া হয় এবং প্রকাশ্যে শতশত নেতাকর্মীর সামনে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। যার ভিডিও সংরক্ষিত আছে।’’
‘পরের দিন ওই দুজনের অভ্যাস অনুযায়ী কোনো কিছুর বিনিময়ে পরাজিতদের দিয়ে যশোর জেলা বিএনপির নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। জেলা বিএনপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার পর চলতি বছরের ১৯ মার্চ জেলা বিএনপি তাদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি বহাল করে বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামকে যুগ্ম আহŸায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করে। এই সিদ্ধান্ত করোনাভাইরাস মহামারির পূর্বের। তারপর থেকে ইউনুচ আলী ও এমএ সালাম তাদের গ্রহণকৃত কোনোকিছু রক্ষার স্বার্থে গত ১৮ জুলাই তারিখে সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র পরিপন্থীভাবে আমার বিরুদ্ধে ১০০% মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।’
‘আমি মো. জহুরুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন ধেকে প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্রদলের থানা কমিটির সভাপতি ছিলাম। দুই বছর এই দায়িত্ব পালন করে সরাসরি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। তখন ইউনুচ আলী ও এমএ সালাম জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। আমি প্রায় ৪০ বছর এই দলের সর্বোচ্চ পদে (উপজেলা পর্যায়ের) দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি এই দলটি আমার রক্তঘামে সংগঠিত করেছি। সেই দলের গঠনতন্ত্রপরিপন্থী কাজ করে বিশৃঙ্খলা করতে পারি- এটা অসুস্থ ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়া কিছু নয়। বরং ইউনুচ আলী ও এমএ সালাম একটির পর একটি বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড করে চলেছেন। যেমন ৩০ বছরের নির্ধারিত  দলীয় অফিস থাকা সত্তে¡ও যত্রতত্র বিতর্কিত সভা করা। দলের আহ্বায়ক কোনো প্রোগ্রাম করলে পাল্টা প্রোগ্রাম করা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সরকারি দলের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট করা। অছাত্রদের দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো পাল্টা ছাত্রদলের কমিটি করা। আহ্বায়ককে বাদ রেখে স্বরুপদাহ ইউনিয়নে পাগলের মতো অবৈধ কমিটি ঘোষণা দেওয়া। ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় প্রকাশ্যে সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস করা। চৌগাছা ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সময় সরকারি দলের লোক দিয়ে সন্ত্রাস করা ও বিএনপির লোকদের অপহরণ করা। পাশাপোল, স্বরুপদাহ, নারায়ণপুর, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সময় সরকারি দলের লোক দিয়ে সন্ত্রাস ও অপহরণ করা। সর্বোপরি নিজেরা কর্মীবিচ্ছিন্ন হয়ে উপজেলা বিএনপি আহ্বায়কের বিরুদ্ধে সংবাদিক সম্মেলন করার সময় ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীদের উপস্থিত রাখা। এই ধরনের অসংখ্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড তারা করে চলেছে। আমি উপজেলা ইউনিটের প্রধান হয়েও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করিনি। দল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবে। আমি ভালো কাজ করলে মহান আল্লাহর রহমতে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করবেন। সে কারণে আমি তাদের এই সমস্ত বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা ভাবি না।’
জহুরুল বলেন, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বৈধ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং গত ১৯ মার্চ তারিখের পত্র অনুযায়ী বৈধ কমিটি। স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি বহাল রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, পৌর যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র সহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বিএম আজিম উদ্দিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন