বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু, দুই পক্ষের অবহেলার অভিযোগ

আপডেট: 01:21:40 14/02/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের বারবাজার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ইনচার্জ জিয়াউল হক (৫২) বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করার সময় খুঁটি থেকে পড়ে মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, বিদ্যুৎ সমিতির অসচেতনতা ও খামখেয়ালিপনায় এবং ডাক্তারদের চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুর রব অসচেতনতা ও খামখেয়ালিপনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যশোর অর্থোপেডিক সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাইফুল ইসলামের দাবিও অনুরূপ।
নিহত জিয়াউল হক জামালপুর জেলার বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত আশরাফ আলী আকন্দের ছেলে।
ওই ব্যক্তির ছেলে মো. সালেহ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা জিয়াউল হক বৃহস্পতিবার বারবাজার কাষ্টভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজ করছিলেন। এসময় খুঁটির ওপর থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তার বাম হাত ভেঙে যায়। আমরা খবর পেয়ে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল আনতে চাই। কিন্তু ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুর রহমান স্যার তা করতে দেননি। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের সামনে অর্থোপেডিক সেন্টারে (বেসরকারি ক্লিনিক) নিয়ে ভর্তি করেন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে। ক্লিনিকটিতে একজনমাত্র ডাক্তার। ওই ডাক্তার আমার বাবাকে ভালোভাবে না দেখে উল্টোপাল্টা চিকিৎসা দেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্য বাবা মারা যান। আমার বাবাকে ডাক্তার অবহেলা না করে যদি ভালোভাবে চিকিৎসা দিতেন, তাহলে তার মৃত্যু হতো না।’
‘এমনকি মৃত্যুর পরে ক্লিনিকের ডাক্তার সাইফুল লাশ জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসা দিতে।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করার সময় খুঁটি থেকে যখন তখন কেউ পড়ে মারা যাতে পারে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করায় না পল্লী বিদ্যুৎ। বড় স্যাররা খামখেয়ালি করেন। বড় স্যারের আদেশ পালন করতে গিয়ে আমার বাবার মৃত্যু হলো। ডাক্তার ও বিদ্যুৎ বিভাগই আমার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী।’
তবে, যশোর অর্থোপেডিক ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাইফুল ইসলাম কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘আমার কর্তব্যে অবহেলা ছিল না। ওই ব্যক্তির শরীরে প্রচুর ঘাম হচ্ছিল, সমস্ত শরীর কাঁপছিল। রক্তচাপ ছিল অধিক। শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল। আমি প্রথমেই তাদের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। কিন্তু আমাদের ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার গোলাম ফারুকের ওপর অধিক আস্থার কারণে তারা এখানেই ভর্তি করেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা ও সেবা প্রপার ওয়েতে দিয়েছি। ওই ব্যক্তির শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। এসব কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
বক্তব্য জানার জন্য যশোর অর্থোপেডিক সেন্টারে গিয়ে এটির মালিক ডাক্তার গোলাম ফারুককে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুর রব সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সব সময় সচেতন। কোনো প্রকার খামখেয়ালি করে আমরা কাউকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিই না। কাজের সময় দুর্ঘটনায় কেউ যদি মারা যায়, তাহলে আমাদের কী আর করার থাকে!’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাড়ে ছয়টায় মৃত অবস্থায় জিয়াউল হককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
যশোর কোতয়ালী থানার এসআই মাহবুব আলম বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

আরও পড়ুন