বিশ্ব নারী দিবস, যশোরে আয়োজনই সার!

আপডেট: 12:06:41 08/03/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : সমন্বয়হীনতার কারণে যশোরে নারী দিবসের র‌্যালি হয়নি, সভা কখন হবে সে বিষয়ে নির্ধারিত কিছু বলতে পারেননি আয়োজকরা। অবশ্য র‌্যালির জন্য সময়মত উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সভা শুরু না হওয়ায় বসে থেকে চলে গেছেন অতিথি ও কিছু অংশগ্রহণকারী।
আজ বিশ্ব নারী দিবস। এ বছর দিবসটিকে গুরুত্বের সাথে পালন করছে সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। দিবসটি উপলক্ষে গত ৫ মার্চ দেশব্যাপী নারী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরেও পালন করা হয় নারী সমাবেশের সেই কর্মসূচি।
নারী দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় র‌্যালি ও সকাল ১০টায় আলোচনাসভার জন্য নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। যশোরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র‌্যালি এবং সভা ছিল সিসিটিএস অডিটরিয়ামে। যা যশোরের জেলা প্রশাসকের দৈনন্দিন কর্মতালিকাতেও সন্নিবেশিত করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে সাংবাদিকরা র‌্যালির সংবাদ সংগ্রহে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে হাজির হন। এরপর দুই/তিনটি সংগঠনের কর্মীরা র‌্যালির ব্যানার নিয়ে সেখানে হাজির হন। সকাল ৯টায় ওইস্থানে আসেন জেলা প্রশাসকও। তিনি খোঁজাখুঁজি করেও আয়োজক মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে খুঁজে পাননি। পরে তিনি নিজ কার্যালয়ে চলে যান।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, অফিসে এসে র‌্যালির জন্য কিছু লোককে অফিস চত্বরে পাই। র‌্যালি হবে জেনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে খুঁজেছি; কিন্তু পাইনি। পরে আমি অফিসে চলে যাই। এরপর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আমাকে জানিয়েছেন র‌্যালি হবে না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভির ক্যামেরাপারসন আবুল কালাম আজাদ ও ৭১ টিভির ক্যামেরাপারর্সন আল আমিন রাব্বি জানান, জেলা প্রশাসক নিজ অফিসে চলে যাওয়ার কিছু সময় পর র‌্যালিতে অংশ নিতে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি। তখন র‌্যালি হচ্ছে না বলে র‌্যালিতে অংশ নিতে আসা কিছু নারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যাচ্ছিলেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা তাদের চলে যাওয়াকে র‌্যালি মনে করে দৌঁড়ে তাতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি বলেন, অল্প কয়েকজনের র‌্যালিতো হয়েছে। ওদের হাতে র‌্যালির ব্যানার ছিল। সভাস্থলেও গিয়েছিলাম। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে চলে এসেছি। আরো অনেক প্রোগ্রাম আছে। এখনও একটি প্রোগ্রামে আছি বলে যোগ করেন তিনি।
এদিকে, সভাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নারীদের বসে থাকতে দেখা যায়। তবে অতিথিরা কেউ ছিলেন না। অপেক্ষা করতে না পেরে অনেক অংশগ্রহণকারী সভাস্থলে ছেড়ে চলে যান। কয়েকজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা জানান, আরো অনেক কাজ আছে। কত সময় বসে থাকা যাবে।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সকিনা খাতুনকে র‌্যালি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, র‌্যালিতো হওয়ার কথা না। জেলা প্রশাসকের কর্মসূচিতে র‌্যালির কথা উল্লেখ রয়েছে এবং অতিথিরা উপস্থিত হয়েছিলেন জানালে তিনি বলেন, আমরা আসলে নারীদের ওখানে জড়ো হতে বলেছিলাম সভাস্থলে আসার জন্য। র‌্যালি করবো কেন, ৫ মার্চতো নারী সমাবেশ করেছি। আর কী দরকার। সভা কখন শুরু হবে তাও তিনি সঠিক করে বলতে পারেননি।
স্থানীয় সাংবাদিকরা অন্য প্রোগ্রামের কারণে ওইস্থান ত্যাগ করতে চাইলে তিনি সবাইকে থাকার অনুরোধ করেন এবং বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচ্ছি, দেখি কাউকে এনে সভা শুরু করতে পারি কি না। প্রায় ২০মিনিট অপেক্ষার পর সাংবাদিকরা একে একে সভাস্থল ত্যাগ করতে থাকেন।
ওইস্থানে উপস্থিত স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক স্পন্দনের ক্যামেরাপারসন ইমরান হাসান টুটুল বলেন, সাংবাদিকরা চলে যাবার পরও আমি কিছু সময় ছিলাম। এরপর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মী ইসলামকে সাথে নিয়ে সভাস্থলে ফিরে আসেন। তারপর হলরুম থেকে কয়েকজন নারীকে ডেকে নিচে এনে র‌্যালির ব্যানার ধরে ছবি তুলে উপরে উঠে যান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাম্মী ইসলাম ছাড়া আর কোনো অতিথি ওই সভাতে ছিলেন না।

আরও পড়ুন