বেনাপোলে কন্টেইনার ট্রেনে পণ্য আমদানি শুরু

আপডেট: 10:19:58 26/07/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বেনাপোল বন্দর দিয়ে কন্টেইনার ট্রেনের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে।
আজ রোববার কন্টেইনার ট্রেন উদ্বোধন করেন বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, বন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন প্রমুখ।
দুপুরে কন্টেইনার করপোরেশনের ৫০টি সাইডডোর কন্টেইনার পিঅ্যান্ডজি বাংলাদেশ লিমিটেডসহ মোট আটটি কোম্পানির ৬৪০ টন পণ্য ভারত থেকে আসে।
কন্টেইনার ট্রেনটি কসমেটিকস ও গার্মেন্টস সামগ্রী নিয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। কন্টেইনার করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার এজেন্সি হিসেবে টিসিআই বাংলাদেশ লি. এবং এটির ভেন্ডর পার্টনার এম এম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল ও বেনাপোল রেলস্টেশন ম্যানেজার সাহিদুজ্জামান জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত সরকার গত ২২ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে রেল ও স্থলপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। এতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাক পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে। রফতানির পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরেও আটকে পড়ে অনেক ট্রাক। এ কারণে আড়াই মাস ধরে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন।
ভারতে লকডাউন কিছুটা শিথিল হলেও শুরু হচ্ছিল না বাণিজ্য। সে সময় বিকল্প মাধ্যমে বাণিজ্য সচল করতে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কন্টেইনার ট্রেন চালানোর বিষয়ে আলোচনায় বসে।
তারই ধারাবাহিকতা রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর থেকে কন্টেইনার ট্রেনে পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, 'করোনা সংক্রমণের শুরুতে উভয় দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছিল।
আজ কন্টেইনার ট্রেনের মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য শুরুতে আমাদের স্টেক হোল্ডারসহ সব ধরনের বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। এতে সময় ও খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি যথেষ্ট নিরাপত্তাও রয়েছে।
ভারত থেকে ট্রেনযোগে মালামাল এলে আমাদের রেল খাতেও উন্নয়ন হবে। বন্দর চার্জ পাবে। ব্যবসায়ীদের সাশ্রয় হবে। আগে সাধারণ ট্রেনে পণ্য এসেছে ভারত থেকে। এখন কন্টেইনার ট্রেনের মাধ্যমে পণ্য আসা শুরু হলো।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, কন্টেইনার ট্রেনে পণ্য আমদানিতে বাণিজ্যের মাধ্যমে নতুন এক দিগন্তের দ্বার উন্মোচন হলো। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন কম খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন, তেমনি পণ্য দ্রুত গন্তব্যে নিতে পারবেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা স্বপ্ন দেখতো কন্টেইনার ট্রেনে করে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হবে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো বেড়ে গেল। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়ও।'
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ল্যান্ডপোর্ট বিষয়ক উপকমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, আরো অনেক আগে এপথে কন্টেইনার ট্রেনের মাধ্যমে পণ্য আমদানির কথা ছিল। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে এতোদিন তা চালু হয়নি। এনিয়ে অনেক বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। এখন বেনাপোল বন্দর দিয়ে স্থলপথের পাশাপাশি রেলপথে পণ্য আমদানি দ্রুত বাণিজ্য সম্পাদনে বড় ভূমিকা রাখবে।
বেনাপোল রেলস্টেশনের ম্যানেজার সাইদুজ্জামান জানান, আগে রেলে যে পণ্য আমদানি হতো তা ৫০ কিলোমিটার দূরে যশোরের বসুন্দিয়ায় নিয়ে খালাস করতে হতো। এখন কন্টেইনার ট্রেনে যে পণ্য আমদানি হচ্ছে তা বেনাপোল বন্দরে খালাস হবে। এতে করে কাস্টমস, আমদানিকারক, ট্রান্সপোর্ট ও বন্দর- সব কর্তৃপক্ষের সুবিধা হবে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে কন্টেইনার ট্রেনে ভারত থেকে আমদানি পণ্যের প্রথম চালান গ্রহণ করা হলো। এসব পণ্য বেনাপোল বন্দরে খালাসের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে ব্যবসায়ীরা রাজস্ব পরিশোধ, কাস্টমস ও বন্দরের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বন্দর থেকে খালাস নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন