বেনাপোলে ভ্রমণ কর বাবদ ৬৭ কোটি টাকা আয়

আপডেট: 06:25:45 19/07/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল আন্তর্জাতিক কাস্টম-ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতে ভ্রমণকারী দেশি-বিদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ ২০১৯-২০ অর্থবছর সরকারের ৬৭ কোটি ৪৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৪ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই সময়কালে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৩ যাত্রী এই পথ দিয়ে ভারতে যান।
আদায় হওয়া রাজস্বের মধ্যে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকে জমা পড়ে ৪৭ কোটি ৪৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। বাকি অর্থ জমা পড়েছে দেশের অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায়।
তবে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে যাত্রীর যাতায়াত নেই বললেই চলে। সোনালী ব্যাংক বেনাপোল শাখার ব্যবস্থাপক রকিবুল ইসলাম যাত্রী পরিসংখ্যান ও রাজস্ব আদায়ের এই তথ্য দিয়েছেন।
ভারতগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর আদায়ে কাজ করে থাকে বেনাপোল সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যাত্রীপ্রতি সরকার নির্ধারিত  ৫০০ টাকা ভ্রমণকর এবং টারমিনাল ট্যাক্স বাবদ ৪২ টাকা ৮৫ পয়সা আদায় করা হয়। গেল অর্থবছরে যে সব যাত্রী ভারতে প্রবেশ করেছেন তাদের ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি এবং ১০ শতাংশ ভারতসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক।
বন্দর ও ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে ১৯৭২ সাল থেকে বৈধভাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত যাতায়াত শুরু হয়। বেনাপোল থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম সিটি ও ব্যবসা কেন্দ্র কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৮৪ কিলোমিটার। বেনাপোল থেকে রওনা দিয়ে ট্রেন ও বাসযোগে মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় কলকাতায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ পথে চিকিৎসা, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য মানুষ যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন। বর্তমানে বেনাপোল দিয়ে স্থলপথের পাশাপাশি রেলপথেও যাত্রীরা ভারত যাতায়াত করে থাকেন।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকার ১৩ মার্চ বিকেল থেকে ওপারে পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের যাত্রীদের সেদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। স্থগিত হয়ে যায় সব ভিসা। ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস ও খুলনা-কলকাতা বন্ধন ট্রেন সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২২ মার্চ ভারতে জনতার কারফিউ জারি করা হয়। ২৩ মার্চ থেকে দফায় দফায় লকডাউন ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। যে সমস্ত বাংলাদেশি আগে থেকে ভারতে ছিলেন তারা ইচ্ছা করলে চলে আসতে পেরেছেন। আর ভারতীয় নাগরিক যারা বাংলাদেশ ফিরতে চাইলে গ্রহণ করা হয়েছে।
এর পর পেট্রাপোল বন্দর এলাকা দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতের ওপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয় ২৭ মার্চ রাত থেকে। সেই থেকে এখনো এ পথে বাংলাদেশিদের ভারত যাওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে কূটনীতিক, অফিসিয়াল, জাতিসংঘ/আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসাধারীদের  যাতায়াত সচল রয়েছে বলে ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে প্রতিবছর এতো বিপুল রাজস্ব আয় হলেও অভিযোগ রয়েছে, দুই পারের ইমিগ্রেশনেই যাত্রীসেবা বাড়েনি। অবকাঠামো উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি অবাস্তবায়িত রয়েছে। এছাড়া টারমিনাল চার্জের নামে ট্যাক্স আদায় করা হলেও যাত্রীরা তেমন কোনো সুবিধা পান না। আর ওপারে তো টারমিনালের কোনো বালাই নেই। লম্বা শেডের নিচে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হন।
করোনাভাইরাস মহামারীর আগে ইমিগ্রেশনে যাত্রীছাউনি না থাকায় যাত্রীদের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। দৌরাত্ম্য কমেনি প্রতারকদেরও।

আরও পড়ুন