বেনাপোল দিয়ে রেলে পণ্য আমদানি বাড়ছে, স্বস্তি

আপডেট: 03:10:11 28/01/2021



img
img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ২৬১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে সরকার। অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাবদ দুই কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় করেছে। এ সময়ে রেলপথে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮২২ কোটি টাকার। যার পরিমাণ দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪.৩ টন। অর্থবছরের শেষে এ পথে দ্বিগুণ রাজস্ব ও ভাড়া আদায় হবে বলে জানান রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশন মাস্টার শাহিদুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতের বনগাঁ পৌরসভার কালিতলায় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক দিনের পর দিন পার্কিংয়ে রেখে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। ওই পার্কিং থেকে কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ৩০-৪০ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে বেনাপোল বন্দরে ট্রাক পাঠাতেন সিন্ডিকেট সদস্যরা; যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাংলাদেশি আমদানিকারক ও ভারতের রফতানিকারকরা হিমসিম খাচ্ছিলেন। পণ্য চালানে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের বাজারে। তারপরও দুই দিন পর পর নানা কারণে ধর্মঘটের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।
ওখান থেকে প্রতিদিন কবে কোন ট্রাক বাংলাদেশে যাবে তা তারাই ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করে দেয়ালে কাগজ সেঁটে দিতেন। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে না পারায় শিল্প কার্যক্রম ব্যাহত হয় মারাত্মকভাবে। ট্রাকচালকরাও এই প্রক্রিয়ায় লোকসানে পড়েন। এর মধ্যে দুই দেশের কাস্টমস, রেল মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা ২০২০ সালের ৪ জুন রেলপথে পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর করোনার আগে বেনাপোল রেলপথে কেবল কার্গো রেলের মাধ্যমে ভারত থেকে সপ্তাহে একটি বা দুটি চালান আসতো। আবার কখনো দেখা গেছে, মাসে একটি রেল আসছে না। কিন্তু বর্তমানে চিত্র ভিন্ন। প্রতিদিন কার্গো রেল, সাইডোর কার্গো রেল এবং প্যার্সেলভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে সরকারের যেমন রাজস্ব আয় হচ্ছে, তেমনি রেলেরও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আহরণ হচ্ছে। এর ফলে কমছে ট্রাক চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য, ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।
বেনাপোল রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দর রেলপথে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৩ টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এদিকে, গত বছরের ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ দশমিক ৯ টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় আট কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশন মাস্টার শাহিদুজ্জামান জানান, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথে পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বন্দরে দুটি রেল ইয়ার্ড নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি আরো জানান, আগে এ পথে চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনা ঝাল, পাথর ও ফ্লাই অ্যাশ আমদানি হতো। বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য, ডেনিম ফেব্রিক্স, পিকআপ, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এভাবে যদি রেলপথে পণ্য আমদানি অব্যাহত থাকে তাহলে এবছর রেলখাতে সরকারের রাজস্ব দ্বিগুণ আদায় হবে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, 'প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছে। ভারতীয় হাই কমিশনারসহ বিভিন্ন মহলে আবেদন করার পরেও আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছি না। বর্তমানে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি সচল রয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় এ বছর রেলখাতে সরকারের দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হবে।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, 'কন্টেইনারের মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য শুরু হওয়ায় আমাদের স্টেকহোল্ডারসহ সকল ব্যবসায়ীর বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এতে সময় খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি যথেষ্ট নিরাপত্তাও রয়েছে। ভারত থেকে রেলযোগে মালামাল এলে আমাদের রেলখাতেও উন্নয়ন হবে। বন্দর একটি চার্জ পাবে। ব্যবসায়ীদের খরচ কম হবে।'

আরও পড়ুন