ব্রিজের মুখে বাঁধ, কৃষকের জমি দখল করে মাছ চাষ

আপডেট: 04:35:33 25/07/2020



img

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : কলারোয়ার উপজেলার বসন্তপুর বিলে সরকারি ব্রিজের মুখে ভেড়িবাঁধ দিয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছেন প্রভাবশালী দুই ঘের মালিক। দেড় শতাধিক কৃষককে জিম্মি করে তাদের জমি জবর দখল করে অবৈধভাবে এই মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে কলারোয়া প্রেসক্লাবে বসন্তপুর গ্রামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই গ্রামের কৃষক মৃত ইসমাইল মোড়লের ছেলে জালাল মোড়ল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকরা চার মাস ধরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রশাসনের তেমন কোনো সাড়া পাননি। বরং তাদের ভ‚মিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে দিন দিন সেখানে সৃষ্টি হতে চলেছে সংর্ষের পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে বসন্তপুর বিল-সংলগ্ন একটি সরকারি খাল আছে। খালটি কপোতাক্ষ নদের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান সরকার নদীটি খনন করায় খাল ও নদীতে জোয়ার ভাটা হয়। বসন্তপুর গ্রাম থেকে বিলের মধ্য দিয়ে ওই খাল পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সরকারি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তার ওপর বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ব্রিজ রয়েছে।
‘কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় একই গ্রামের মৃত জোহর আলী মোড়লের ছেলে জয়নগর ইউপি সদস্য আরিজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান মোড়লের ছেলে মোখলেছুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ১২ বছর আগে ওই সরকারি ব্রিজের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে বসন্তপুর ও মানিকনগর গ্রামের তারসহ দেড় শতাধিক কৃষককে জিম্মি করে সরকারি রাস্তা মাছের ঘেরের ভেড়ি বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। ফলে ওই বিলের পানি খাল দিয়ে নদীতে প্রবাহিত হতে পারে না।’
‘এভাবে জবরদখলকারীরা বিলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে দুই গ্রামের দেড় শতাধিক কৃষকের প্রায় সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি জবরদখল করে ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাছ চাষ করে আসছে। জমির মালিকদের আজ পর্যন্ত লিজের ন্যূনতম টাকা দেয়নি তারা। জবর দখলকারী ওই দুই ভূমিদস্যুরা সরকারি রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত, ব্রিজের মুখ ভরাট করে বিলটিতে কৃত্রিম জলবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এমনকি বর্ষাকালে পানি গ্রামে ঢুকে ঘরবাড়ি নষ্টসহ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অন্যদিক দেড় শতাধিক কৃষক তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারেন না। অবৈধ ওই মাছের ঘেরের প্রকৃত জমির মালিকরা বর্তমানে রোপা আমন ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ঘেরের অনেকাংশে ধানের বীজতলা রয়েছে। চলতি বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিতে মাছের ঘেরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পানিতে বীজতলা তলিয়ে যাচ্ছে। ঘেরের মাছ বীজতলার ধানের চারা খেয়ে সাবাড় করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জবর দখলকারী ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পেতে এবং কৃষকরা যাতে তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারে তার দাবিতে দেড় শতাধিক কৃষকদের পক্ষে তিনি বাদী হয়ে যথাক্রমে গত ১১ মার্চ জেলা প্রশাসক, জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এবং ১৫ এপ্রিল ও ২৯ জুন তারিখে আবারো সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
‘কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন জবরদখলকারী, সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারী ও সরকারি রাস্থায় ব্রিজের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শাহাজাহান মোড়লের ছেলে তবিবর মোড়ল, জব্বার মোড়লের ছেলে বিল্লাল মোড়ল, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মাহাবুব হাসানসহ অনেকেরই বরাত দিয়ে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘জবরদখলকারী আরিজুল ইসলাম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তার এক ভাই ডা. মেহের উল্লাহ বিসিএস কর্মকর্তা। বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ায় তার কর্মস্থল ঢাকা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ সময় তিনি এলাকায় থেকে নিজস্ব ক্লিনিকে সময় দেন। তাছাড়া ছোট ভাইয়ের অবৈধ মাছের ঘের টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকা তারই ব্যাচমেট, রুমমেট, ছোট ভাই ও বড় ভাইদের দিয়ে তদবির করেন।’
‘এদিকে বড় ভাই নজরুল ইসলাম জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ম্যানেজ করে ভাইয়ের অবৈধ মাছের ঘের দখলে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ বিষয় ঘের পরিচালনাকারী জয়নগর ইউপি সদস্য আরিজুল ইসলাম বলেন, ‘জনস্বার্থে ব্রিজের মুখ বাঁধা হয়েছে। অভিযোগকারীরা তাদের জমি আমাকে মাছ চাষ করার জন্য দশ বছর লিজ দিয়েছে। তাই আমি মাছ চাষ করে আসছি।’
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে আছে। কৃষকরা প্রতিকার চেয়ে আমার দপ্তরে দরখাস্ত করেছে। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করব। তারপর আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন