ভাইকে গুলি করে হত্যা, ভারতে পালানোর সময় আটক

আপডেট: 08:17:50 29/07/2020



img

সংবাদদাতা, শার্শা (যশোর) : নেশার টাকার না পেয়ে রাসেল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে তার আপন ভাই আমজাদ।
বুধবার সকাল দশটার দিকে এই ঘটনা ঘটে বেনাপোলের কাগজপুকুর এলাকায় তাদের নিজ বাড়িতে।
নিহত রাসেল ছিলেন ব্যবসায়ী। খুনি হিসেবে অভিযুক্ত আমজাদ একাধিক মামলার আসামি ও সন্ত্রাসী হিসেবে কুখ্যাত।
ভাইকে গুলি করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমজাদ হোসেন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু পিস্তল, গুলি ও চাকুসহ তাকে ধরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত রাসেল হোসেন (৩৭) ও হত্যাকারী আমজাদ (৩২) হোসেন কাগজপুকুর এলাকার ইদ্রিস আলী ইদুর ছেলে।
তাদের চাচা আব্দুল করিম বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমজাদ নেশার জন্য তার ভাই রাসেলের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বুধবার সকাল দশটার দিকে আবার সে রাসেলের কাছে টাকা দাবি করে। রাসেল টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমজাদ তার গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ রাসেলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (বুরুজবাগান হাসপাতাল) নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা দেন।
স্থানীয়রা জানান, বেনাপোল-শার্শার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, একাধিক মাদক ও হত্যা মামলার আসামি বোমা বিস্ফোরণে নিহত আমিরুলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল এই আমজাদ হোসেন। কাগজপুকুরসহ বেনাপোল-শার্শা এলাকায় ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত আমজাদ।
নিহত রাসেল হোসেন ছিলেন বেনাপোল বাজারে ডাবলু মার্কেটে একজন কসমেটিক্স ব্যবসায়ী।
বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল ওহাব বলেন, ‘স্থানীয় লোক মারফত খবর পেয়ে আমজাদ নামে ওই যুবককে আমরা আটক করি। স্থানীয় লোক আমাদের জানায়, সে নিজ ভাইকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে। তাকে আটক করা হলেও সে নিজেকে আলী হোসেন বলে পরিচয় দেয়। আটকের সময় তার কাছে একটি ছোট চাকু পাওয়া যায়। আমরা নিশ্চিত হতে না পেরে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশ তাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়।’
বেনাপোল পোর্ট থানার ডিউটি অফিসার এএসআই রোকনুজ্জামান বলেন, আমজাদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওসি মামুন খানের নেতৃত্বে তাকে সীমান্তের সাদিপুর ইছামতি নদী থেকে ধরা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, ধরা পড়া আমজাদ থানাহাজতে আছে । তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
গুলিতে নিহত রাসেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনার ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি মামুন।

আরও পড়ুন