ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট: 02:53:06 23/11/2020



img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক এবং সেটেলমেন্ট অফিসের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেওয়ার’ প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে।
সোমবার (২৩ নভেম্বর) ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামবাসীর উদ্যোগে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় ।
মানববন্ধন চলাকালে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আবদুল মান্নানসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, লোহাগড়া বাজার বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন ৮৯ নম্বর লোহাগড়া মৌজার সাবেক খতিয়ান ৩৭৭-এর সাবেক ১৫২ নম্বর দাগের জমির একাংশের মালিক লোহাগড়া পোদ্দারপাড়া গ্রামের মো. শাহিনুর রহমান রনি, সাবেক ৮২২ নম্বর দাগের জমির একাংশের মালিক মো. কামরুল ইসলাম মিকু, মো. রিজাউল করিম, মো. মোক্তার হোসেন। এছাড়া সাবেক ৮২২ নম্বর দাগের একাংশ ও সাবেক ১৫২ নম্বর দাগের একাংশের মালিক মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। দীর্ঘ ৩৫-৪০ বছর ধরে ওই পরিবারগুলো পাকা ঘর নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করছে। অথচ লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিএম কামাল হোসেন সাবেক ৮২২ ও ১৫২ নম্বর দাগের ১৫ শতক জমি (বর্তমান দাগ-৩৭৭৭) নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক মো. জাহিদ হোসেন এবং সেটেলমেন্ট অফিসের নৈশপ্রহরী মো. নুরুল আমিন সাড়ে সাত শতক করে মোট ১৫ শতক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি (বর্তমান দাগ-৩৭৭৬) নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। যার হাল খতিয়ান নম্বর-১৩৯২।
ভাইস চেয়ারম্যান বিএম কামাল হোসেন এই বিষয়ে বলেন, ‘ওই জমি সরকারি খাস খতিয়ানের ছিল। সেটেলমেন্ট অফিসের মাধ্যমে ১২ শতক সরকারি জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নিয়েছি। ৩০ ধারা মামলা শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত হতে আরো ছয়মাস লাগবে। সরকার যদি না দেয়, জমি পাবো না। আমিতো জবরদখল করিনি, বাড়িঘর বানাইনি। এখনো জমির দাবিও করিনি। আমি একজন নাগরিক হিসাবে সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি নিতেই পারি।’
অফিস সহায়ক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি খাস জমি ২০১৪ সালে সরকারের কাছ থেকে নিয়েছি। কারো ব্যক্তিগত জমি দখল বা রেকর্ড করে নিইনি।’
সেটেলমেন্ট অফিসের নৈশপ্রহরী মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘ওই জমি আমার নামে হয়েছে তা সেটেলমেন্ট অফিসের স্যারের মাধ্যমে জেনেছিলাম। কীভাবে হলো জানি না।’
এই বিষয়ে জানতে লোহাগড়া উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার নিরঞ্জনকুমার দাস বলেন, ‘আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।’
জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. কামরুল আরিফ বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান সাহেব এবং অপর একটি পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের কপি পেয়েছি। ওটি খাস জমি না। ওই জমি ভিপি জমি। অভিযোগের বিষয়টির তদন্ত চলছে।’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তদন্ত করে জমি ফেরতসহ দখলকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন