ভাতা মেলেনি ফিরোজা-নবীজানদের

আপডেট: 06:36:44 09/09/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের মাহমুদকাটি গ্রামের বিধবা ফিরোজা বেগম বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তার ডান হাত-পা অচলপ্রায়। স্বামী মকলেছুর রহমানের মৃত্যুর পর বয়স্কভাতা চালু হয়েছে তার। ভাতার টাকায় চলতো চিকিৎসা। বিনা ঝামেলায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে তিনি ভাতা তুলেছেন ১৫ বছর। হঠাৎ নতুন নিয়মে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ভাতা তুলতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েছেন।
শারীরিকভাবে অক্ষমপ্রায় এই বৃদ্ধা মাস দুয়েক আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভাতা পাননি। অন্যরা ভাতা নিয়ে ফিরলেও তিনি ফিরেছেন খালি হাতে। জানানো হয়েছে, অনলাইন ডাটায় তার নাম নেই।
ফিরোজা বেগমের মতো পৌরসভা ডিজিটাল সেন্টার ও সমাজসেবা অফিসে দুইদিন হেঁটে ভাতার টাকা তুলতে পারেননি গাংড়া গ্রামের নবীজান বিবি। তার নামও নাকি অনলাইনে এন্ট্রি হয়নি।
শুধু বৃদ্ধা ফিরোজা বা নবীজান নন; চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন- এই ছয় মাসের ভাতা পাননি উপজেলার সরসকাঠি গ্রামের আব্দুল হামিদ, পট্টি গ্রামের মুজিবুল হক, বাগডোব গ্রামের রোজিনা খাতুন, মরিয়ম বেগম, আকবর আলী ও নোয়াপাড়া গ্রামের ছিরোমতিসহ উপজেলার কয়েকশ’ ভাতাভোগী। কবে আবার ভাতা পাবেন তাও জানেন না তারা।
ফিরোজা বেগমের ছেলে নূর ইসলাম বলেন, ‘ওয়ার্ডের তাইজুল ইসলাম মিলন মেম্বার কয়েকমাস আগে বাড়িতে এসে মার বই নিয়ে গেছে। পরে ভাতা আনতে গিয়ে মা ফিরে এসেছে। এখন মেম্বাররে জিজ্ঞেস করলে আজ না কাল- এভাবে বুঝ দিচ্ছে। মার বইটাও আমাদের কাছে নেই।’
খেদাপাড়া ইউপির সাত নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার তাইজুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘ওয়ার্ডের সবাই টাকা পাইছে। ফিরোজা বেগমের অনলাইনে একটু সমস্যা ছিল। আজ বা কালকের মধ্যে তিনি টাকা পাবেন।’
খেদাপাড়া ইউপিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৩২টি ভাতার বইয়ের টাকায় সমস্যা হওয়ায় সেগুলো উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। আর রোহিতা ইউনিয়নের ১৫-২০টা বইতে এই সমস্যা আছে।
ভাতাভোগীদের উপকারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা বাদ দিয়ে স্ব-স্ব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ব্যাংকএশিয়ার মাধ্যমে ভাতার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই অনুযায়ী ছয়মাস আগ থেকে ভাতাভোগীদের নাম ও বইয়ের নাম্বার অনলাইনে এন্ট্রির কাজ শুরু হয়। বইয়ের সঙ্গে ভোটার কার্ডের নামের অমিল, একই নম্বরে একাধিক বইয়ের ডাটা তৈরি ও সময়মতো গ্রাহকদের বই সমাজসেবা অফিস বা ইউনিয়ন পরিষদে না পৌঁছানোয় অনেক ভাতাভোগী গত ছয় মাসের ভাতা তুলতে পারেননি। বিভিন্ন ইউনিয়নের উদ্যোক্তা বা সমাজ সেবা অফিস সূত্রে এমনটি জানা গেছে।
তবে উপজেলার কতজন ভাতাভোগীর টাকা উত্তোলনে সমস্যা- তার সঠিক হিসেব সমাজসেবা অফিস জানাতে পারেনি। এদের তথ্য ঠিক করে অধিদপ্তরে পাঠাতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।
মণিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, যেসব বইয়ের সমস্যা রয়েছে সেগুলোর তালিকা চলতি মাসে ঢাকায় পাঠানোর চেষ্টা চলছে। আগামী মাসে তারা ভাতা তুলতে পারবেন।

আরও পড়ুন