ভারতফেরত যাত্রীদের দেওয়া হচ্ছে লাখ টাকার খাবার

আপডেট: 01:42:04 09/06/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে কবলে পড়ে কয়েক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে আটকে পড়েছিলেন। বাংলাদেশ মিশনের ছাড়পত্র জটিলতাসহ নানা দুর্ভোগের কারণে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছিলেন তাদের অনেকেই। এমনকি বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা করতে যাওয়া অনেক ব্যক্তিকে সে দেশে অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হয়েছে। অনেকই হাত পেতে সেখানে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তারপরে নানা দুর্ভোগ পেরিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করার পর নতুন জটিলতার মুখে পড়েন শত শত মানুষ।
যশোরের জেলা প্রশাসক ভারত থেকে আসা ব্যক্তিদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকারি হোম কোয়ারেন্টিনে ছয় টন চাল ও ইমিগ্রেশন সেন্টারের মধ্যে পানি, শুকনো খাবার ও ফল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। তাছাড়া সরকারি হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের কাঁচাবাজারের জন্য ধার্যকৃত প্রতিদিনের মাথাপিছু খরচও দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি এই উদ্যোগে যাত্রীরা আনন্দিত।
ভারত থেকে ফেরা ঊষারাণী বলেন, দেহে ক্যান্সার ধরা পড়ার পরে বাংলাদেশে অনেক স্থানে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু খুব একটা ভালো ফল পাইনি। সর্বশেষে গরু বিক্রির টাকা ও জমি বন্ধক দিয়ে ভারতে তিন মাস ধরে চিকিৎসা নিয়েছি। লকডাউনের কারণে দেশে ফিরতে পারিনি। এমনকী বাংলাদেশে প্রবেশের সাথে সাথে নিজ খরচে হোটেলে ১৪ দিনে থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো টাকা অবশিষ্ট নেই যে নিজ খরচে বাংলাদেশে এসে হোটেল ভাড়া দিয়ে, তিন বেলা হোটেলে খেয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবো। এক পর্যায়ে ইমিগ্রেশন থেকে আমাদের যশোর পিটিআই ট্রেনিং সেন্টারে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। সেখানে সরকারিভাবে থাকা ও খাবারের জন্য চাল দেয়া হচ্ছে। এটা আমাদের মত মানুষের জন্য খুবই সহায়ক হয়েছে। তা না হলে আমাদের মত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে আসা পাসপোর্টযাত্রীরা হতাশায় আরো মারা যেত।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের কথা জানার পরে জেলা প্রশাসক নিজের ফান্ড থেকে পিটিআই ও ঝিকরগাছা লাউজানি গাজীর দরগাহ কোয়ারেন্টিনে ৬ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। তাছাড়া ভারত থেকে দেশে প্রবেশের পরপরই সেইসব যাত্রীদের জন্যে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একলাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব টাকায় একজন যাত্রীর জন্য ৭০ টাকা মূল্যের এক প্যাকেট খাবার দেয়া হচ্ছে। প্যাকেটে থাকছে এক বোতল বিশুদ্ধ খাবার পানি, ফল ও শুকনো খাবার। সোমবার সারাদিন ভারত থেকে ফেরত আসা ৬৮ পাসপোর্টযাত্রীকে এসব বিশুদ্ধ পানি, ফল ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারি কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের প্রতিদিনের মাথাপিছু খরচের হারও কমানো হয়েছে। যেখানে সরকারি হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা একজন পাসপোর্টযাত্রীর কাছ থেকে আগে নেয়া হতো ১৭০ টাকা। সেই হার কমিয়ে করা হয়েছে ১২০ টাকা। এতে যাত্রীদের অনেকাংশের দুর্ভোগ কমেছে। এখন থেকে ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রীদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে কোনো আপত্তি থাকবে না বলে তিনি জানান।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রীদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের বিষয়টি জানার পর গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাথমিকপর্যায়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীদের জন্য ৬ টন চাল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভারত থেকে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টযাত্রীরা আসার সাথে সাথেই তাদের বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবারও প্রদান করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন