ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি নেপালের

আপডেট: 02:48:07 20/11/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি বলেছেন, কালাপানি এলাকা নেপালের। এখান থেকে এখনই ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
নেপাল, ভারত ও তিব্বতের সংযোগস্থল বলে পরিচিত কালাপানিকে সম্প্রতি নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে মানচিত্রে দেখিয়েছে ভারত। দেশটির মানচিত্র অনুযায়ী, এটি উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগাঢ় জেলার আওতায় পড়েছে। এরপর থেকেই নেপালে বিক্ষোভ চলছে ভারতের বিরুদ্ধে। এ খবর দিয়েছে স্ক্রল ইন।
এ বিষয়ে প্রথম প্রকাশ্যে কথা বলেছেন নেপালি প্রধানমন্ত্রী। ওলি বলেছেন, ‘সরকার কাউকেই দেশের এক ইঞ্চি জমি দখল করতে দেবে না। প্রতিবেশী দেশের উচিৎ আমাদের ভূখণ্ড থেকে অতিসত্বর নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করা।’
মানচিত্র বিতর্ক নিয়ে এ মাসের শুরুতে ভারত বলেছিল যে, নতুন মানচিত্রে নেপালের সঙ্গে সীমান্তে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
এই মানচিত্রে সঠিকভাবেই ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের সীমানা দেখানো হয়েছে। তবে বুধবার নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশকুমার বলেছেন, ‘নেপালের সঙ্গে সীমান্ত অঙ্কনের কাজ বিদ্যমান পদ্ধতি অনুযায়ী চলমান রয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, তার আলোকে সংলাপের মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।’
কুমার আরো বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি করতে চায় এমন কায়েমী স্বার্থবাদীদের বিরুদ্ধে দুই প্রতিবেশীরই সতর্ক থাকা উচিৎ।
তবে ওলি রোববার বলেন, মানচিত্র সংশোধনের চেষ্টা করার বদলে ওই ভূমি পুনরুদ্ধার করা উচিৎ নেপালের।
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তা ও জাতীয় অখণ্ডতার ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি সকলের সমর্থন রয়েছে। আমি সকলকে সরকারের প্রতি শক্ত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে দেশপ্রেমের নামে দৃষ্টিকটু কাজ করাও সঠিক নয়। আমরা এই সমস্যা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমাধান করবো।’
নেপাল কম্যুনিস্ট পার্টির এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার সংলাপ আয়োজনে অসমর্থ নয়। বিদেশি সৈন্য সরকার অপসারণ করবে। এই ইস্যুতে আমরা জাতীয় ঐক্যমত অর্জন করতে পেরেছি।’
ভারত ২ নভেম্বর নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। মূলত, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ও লাদাখে যে দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টি করা হয়েছে তা সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতেই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। তবে এরপর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে নেপালে।
সূত্র : মানবজমিন

আরও পড়ুন