ভালো নেই মাগুরার সংবাদপত্র বিক্রেতারা

আপডেট: 07:07:28 16/07/2021



img
img

এস আলম তুহিন, মাগুরা : মাগুরায় ভালো নেই সংবাদপত্র বিক্রেতারা। প্রতিদিন ভোর থেকে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি, দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাটে সংবাদপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করেন সংবাদপত্র হকাররা। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে বাইসাইকেল চালিয়ে কাজ করতে হয় তাদের।
সাপ্তাহিক কোনো ছুটিও নেই তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটি কাটানোর ফুরসতও মেলে না। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে অনেকদিন বিকেল পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাদের।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঈদ-উৎসবের মুখে অনেক সময় সংবাদপত্রবাহী যানবাহন জেলায় দেরি করে এলে তখন তাদের কষ্টও বাড়ে। সংবাদপত্রবাহী যানবাহন কখনো কখনো বেলা ১২টা অথবা দুইটার সময় পৌঁছায়। তখন হকারদের সংবাদপত্র বিলি করতে সন্ধ্যাও পার হয়।
সরকারঘোষিত টানা লকডাউনে বিপাকে পড়েন জেলার শতাধিক সংবাদপত্র বিক্রেতা। লকডাউনে দোকানপাট, ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ফলে ব্যবসা লাটে ওঠে। লকডাউন শেষেও বাণিজ্যসহ জনজীবন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে দুর্দিন কাটছে না সংবাদপত্র হকারদের।
সংবাদপত্র বিক্রেতা আকতার হোসেন বলেন, ‘আমি এই পেশার সাথে ৩০-৩২ বছর জড়িত। সংবাদপত্র বিক্রি করে আমার সংসার চলে। আগে যেখানে ২০০ থেকে ৩০০ কাগজ বিক্রি হতো বর্তমানে তা নেমেছে একশয়ে। আমাদের সংবাদপত্র মূলত বিক্রি হয় দোকানে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতিতে কাগজের চাহিদা কমে গেছে। বড় দুর্দিন যাচ্ছে আমাদের। এখনো কোনো সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা আমরা পাইনি। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি।’
নুরু নামে এক হকার বলেন, ‘আমি সংবাদপত্র বিক্রি করছি ২৫ বছর। আগে শহরে-বাজার, অফিস-বাসাবাড়ি, দোকানে ৪-৫শ কপি কাগজ চলতো। কিন্তু টানা লকডাউনে আমাদের সংবাদপত্র বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। মাসিকভিত্তিতে কিছু কাগজ চলছে। টানা লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় কাগজের ব্যবসায় মন্দা গেছে।’
আকামত, অসিত, খোকন, আবু ও সাগরসহ আরো কয়েক হকার জানান, মুদ্রিত কাগজের দুর্দিন চললেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। ঈদের পর আবার লকডাউন আসছে। সন্তানাদি নিয়ে নাখেয়ে থাকতে হবে।
সংবাদপত্রের এজেন্ট খান শরাফত হোসেন বলেন, ‘লকডাউনে আমাদের সংবাদপত্র বিক্রি কমে গেছে। আমার নামে ২০টি কাগজ আসে। টানা লকডাউনে কাগজ বিক্রি কমে যাওয়ায় আমরা বিপাকে আছি। সেই সাথে আমার ১০-১২ জন সংবাদপত্র বিক্রেতাদের অবস্থা চলছে খুবই খারাপ। আমরা মাঝে মাঝে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছি।’

আরও পড়ুন