ভাসানচরে যাচ্ছে আড়াই হাজার রোহিঙ্গা

আপডেট: 11:03:25 03/12/2020



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : প্রথম পর্যায়ে নোয়াখালির ভাসানচরে ক্যাম্পে যাচ্ছেন আড়াই হাজার রোহিঙ্গা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে ১০টি গাড়ি বিএফ শাহীন কলেজে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্টে পৌঁছে।
এর আগে দুপুরে ২১টি বাসে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেয় রোহিঙ্গারা। উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে অন্তত ৬০০ রোহিঙ্গা থাকতে পারে বলে ধারণা রোহিঙ্গা নেতাদের।
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে একাধিক কাপড়ের প্যান্ডেল ও বুথ তৈরি করা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিদং এলাকার বাসিন্দা আয়শা বেগম। তিন সন্তান, স্বামীসহ আট সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকতেন কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে। প্রথম পর্যায়ে আড়াই হাজার রোহিঙ্গার সঙ্গে আয়শার পরিবারও যাচ্ছে ভাসানচরে। দুই বছর ধরে বালুখালী ক্যাম্পে ছিল আয়শার পরিবার।
কেন ভাসানচরে যাচ্ছেন জানতে চাইলে আয়েশা বলেন, ভাসানচরে গেলে নাকি আয় রোজগার করা যাবে। সেখানে নাকি বালুখালী ক্যাম্প থেকেও বেশি সুবিধা পাবো। এ জন্য ভাসানচরে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পে এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় চলতে হয়। এভাবে আর কতদিন চলা যায়। তাই ভাসানচরে চলে যাচ্ছি।
এদিকে সরকারের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে জাতিসংঘের সঙ্গে পরামর্শ করেই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে।
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা নিয়ে গত দুই বছর ধরে আলোচনা করছে সরকার। শুধু তা-ই নয়, চলতি বছরের জন্য জাতিসংঘের যৌথ রেসপন্স প্ল্যানে ভাসানচরের বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য একাধিক বৈঠক হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।
তবে বুধবার (২ ডিসেম্বর) ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে জানায়, এই প্রক্রিয়ায় তাদের (জাতিসংঘ) সম্পৃক্ত করা হয়নি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভাসানচর বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে অনেক বৈঠক হয়েছে। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার জন্য ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ নিয়ে দুই বছর ধরে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, ভাসানচর সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য একটি টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট টিম পাঠানোর জন্য তাদের বলা হয়েছে। তারা (রোহিঙ্গারা) কী করবে, কীভাবে যাবে এবং অন্যান্য শর্তাবলি নিয়েও আলোচনা চলছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি একটি ‘প্রটেকশন টিম’ পাঠানোর জন্য তারা (জাতিসংঘ) আমাদের অনুরোধ করেছে। সেটি নিয়েও আমাদের আলোচনা চলছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘ বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু সেই অর্থের কত অংশ রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছায় এবং কত অংশ জাতিসংঘের বিভিন্ন খরচ মেটানোর জন্য ব্যয় হয়, সেই হিসাব তারা কখনও দেয় না। অর্থাৎ জাতিসংঘের স্বচ্ছতার বিষয়টি এখানে অনুপস্থিত।
বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে জাতিসংঘ কোনও তথ্য দিয়েছে কিনা, জানতে চাইলে সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে আমরা জানতে চেয়েছি, কিন্তু জাতিসংঘ এখনও আমাদের  এ বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়নি।
জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর কিছু প্রকল্পের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়েও জাতিসংঘ আমাদের কাছে কোনও তথ্য দেয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে সব সময় বলা হয়েছে—রোহিঙ্গাদের জন্য দেশীয় এনজিওকে বেশি প্রাধান্য দিতে,  যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বেশি কর্মসংস্থান হয়। আমরা এ বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব আশা করছি।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, ভাসানচরে কাউকে জোর করে নেওয়া হচ্ছে না । শুধু মাত্র যারা সেচ্ছায় সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, তাদেরই স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমকে একথা জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন