ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়াবে সৌদি আরব

আপডেট: 08:26:04 23/09/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, সৌদি আরব সেদেশ থেকে ছুটি কাটাতে আসা বাংলাদেশিদের ভিসা এবং আকামার মেয়াদ বাড়ানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানিয়েছে।
তিনি জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানের সব ফ্লাইটকে অবতরণ করতে দেবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও সৌদি এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট অবতরণ করতে দেবে বলে আজই এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজে ফেরত যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট না পাওয়া এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এ সব বিষয়েও সরকারকে ইতিবাচক জবাব দিয়েছে।
"রোববার থেকেই তারা ভিসা এক্সটেনশন করে দেবে। আর চলতি মাসে আরো ২৪ দিন বাকি আছে। তাই এসময়ের জন্য আকামার মেয়াদও তারা বাড়াবে। এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো সংবাদ," বলছেন মি. মোমেন।
এরআগে সকালে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর জন্য সৌদি আরব সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবে সরকারি ছুটি থাকায় সিদ্ধান্তের জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
গত দুইদিন ধরে প্রবাসীদের অনেকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ করছিলেন।
সেই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর একটি বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই বৈঠকের পর প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, এ ধরনের বিক্ষোভ বা আন্দোলন করলে সৌদি আরবের কাছে ভুল বার্তা যাবে।
সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসে যারা আটকা পড়েছেন, তাদের অনেকে আজ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজে ফেরত যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট না পাওয়া এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, সৌদি আরবের সব ধরনের উড়োজাহাজ যেন ঢাকায় আসে এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের যাওয়ার সুযোগ দেয়, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে দেশটিকে।
দুই মন্ত্রীই আটকে পড়া প্রবাসীদের দুইদিন ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর যে বিষয় এসেছে, তা নিয়েও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ৮০ সালে সৌদি আরব ৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছিল। এখন তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অনেকের সেখানেই জন্ম এবং তারা আরবিতে কথা বলে।
মন্ত্রী মি. মোমেন বলেছেন, "সৌদি সরকার এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চায়। তারা রোহিঙ্গাদের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করতে বলেছে। আমরা বলেছি, তাদের কাছে যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট বা কোনো কিছু থাকে, তাহলে আমরা ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেবো। কিন্তু অন্য জায়গা থেকে গেলে আমরা দায়িত্ব নেব না। সেটা তাদের জানিয়েছি।"
তিনি আরো জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে এ বিষয়ে সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন