মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ আনুষ্ঠানিক চালু হচ্ছে আজ

আপডেট: 12:25:34 27/10/2016



img

খুলনা অফিস : পুনঃখনন শেষে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ (চ্যানেল) আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে। এ নৌপথ চালু হলে দূরত্ব কমবে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার।
আগের মতোই এই চ্যানেল দিয়ে নৌযানগুলো উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এতে সুন্দরবনের পরিবেশও আশঙ্কামুক্ত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে চ্যানেলটি উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে নবনির্মিত ১১টি ড্রেজারও উদ্বোধন করবেন তিনি।
উদ্বোধনকালে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গণভবনে এবং নৌ-মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোকমাধব রায় ও বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বাগেরহাট প্রান্তে উপস্থিত থাকবেন।
সমুদ্রপথে বিদেশ থেকে আমদানি করা মালামাল উপকূল অতিক্রম করে অভ্যন্তরীণ নৌপথ দিয়ে দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে পরিবহন এবং বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল রুটে নৌযান চলাচলের জন্য মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নৌ-পরিবহনে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় নৌযান চলাচল সহজ ও সুগম হবে। দেশের আমদানি-রফতানি এবং পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সুবিধা বাড়বে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ ২৬ কিলোমিটার খনন করেছে। ড্রেজার দিয়ে ১৮১.৮০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে। ড্রেজিং করা অংশে পলি ভরাটের কারণে সংরক্ষণ খননের আওতায় ৬২.১২ লাখ ঘনমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ-এর তিনটি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি ড্রেজার সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ে নিয়োজিত আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুনঃখনন করে নৌপথটি চালুর ফলে ৮১ কিলোমিটার দূরত্ব কমে গেছে। এ ছাড়া মংলা-ঘষিয়াখালীর রমজানপুর এলাকায় একটি লুপ কাট করায় আরো পাঁচ কিলোমিটার দূরত্ব কমেছে।
২০১৪-২০১৫ সালে ১৮টি ড্রেজার ও ১৫টি এসকেভেটর দিয়ে চ্যানেলটি পুনঃখনন করা হয়। অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (প্রথম পর্যায় ২৪টি নৌপথ) খনন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ১৯৭২-৭৪ সালে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি খননের মাধ্যমে প্রথম উন্মুক্ত করে। ১৯৮০’র দশকে মংলা-ঘষিয়াখালী সংযুক্ত খালগুলোর মুখ বন্ধ করে চিংড়ি চাষ ও বিভিন্ন পোল্ডার নির্মাণ করায় ভরাট প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের পর থেকেই এ চ্যানেলের নাব্য সংকট শুরু হয় এবং ২০১০ সালের দিকে এসে চ্যানেলটি পুরোপুরি শুকিয়ে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
নৌপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের ভেতরের নদী দিয়ে নৌযানগুলো চলাচল করতে থাকে। এতে সুন্দরবনের পরিবেশ সংকটাপন্ন হতে শুরু করে। সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় ২০১৪ সালের ১ জুলাই নৌপথটি খনন শুরু করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএ-এর নবনির্মিত আটটিসহ মোট ১২টি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছয়টি ড্রেজার ২০১৪ সালের জুনে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথটি পুনঃখননের জন্য পাঠানো হয়। নৌপথটি পুনঃখনন করার পর ২০১৫ সালের মে মাস থেকে পরীক্ষামূলভাবে খুলে দেওয়া হয় এবং ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন গভীরতায় মোট ৩৫ হাজার ১৫টি জলযান এ নৌপথে চলাচল করেছে। নৌপথটি ১৩-১৪ ফুট গভীর ও ২০০-৩০০ ফুট প্রশস্ত করে তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন