মঙ্গলবার থেকে যশোরে দোকানপাট ফের বন্ধ

আপডেট: 10:37:32 17/05/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী মঙ্গলবার সকাল থেকে যশোরের সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে বার বার সতর্ক করার পরও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মার্কেট-শপিংমলে ভিড় জমানোয় আজ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষ হওয়ার পরপরই যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ সুবর্ণভূমিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল যশোর জেলাকে লকডাউন করা হয়েছিল। পরে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১০ মে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দোকানপাট খোলার অনুমতি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ বিকেল তিনটায় যশোর সার্কিট হাউজে ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভা হয়।
জেলা প্রশাসক ও কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
সভায় যশোরের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী মঙ্গলবার থেকে ফের দোকানপাট, শপিংমল, মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভা শেষে জানতে চাইলে বিকেল সোয়া চারটায় জেলা প্রশাসক সুবর্ণভূমিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। সেটা আজও হতে পারে, আগামীকালও হতে পারে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, করোনা সংক্রান্ত সেনা তৎপরতায় যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল নিয়ামুল, পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।
এর আগে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী যশোরের ব্যবসায়ী নেতারা আজ বেলা দুইটায় প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জাহিদ হাসান টুকুন সুবর্ণভূমিকে জানান, ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই ঈদের আগে দোকানপাট না খোলার পক্ষে ছিলেন। পরে সরকার ১০ মে থেকে দোকান খোলার অনুমতি দেওয়ায় যশোরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও খোলে। খরিদ্দাররা বাজারমুখি হওয়ায় এখন তারা ঈদ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাইছেন।
প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এর এক ঘণ্টা পর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় যোগ দিয়ে ব্যবসায়ীদের এই মনোভাব তুলে ধরেন।
কিন্তু যশোরে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লোকজনের বাজারমুখি হওয়ার প্রবণতার প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রস্তাব সভায় গৃহীত হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত দোকান-পাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে গত ২৭ এপ্রিল এই জেলাকে লকডাউন করেছিলেন। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর সুবর্ণভূমির প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন, লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আর গণবিজ্ঞপ্তি আকারে জানানো হবে না। সরকারি নির্দেশনাই এই ব্যাপারে কার্যকর করা হবে। সেই অনুযায়ী ১০ মে থেকে যশোরের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলে।
আজ বিকেলে তিনি সুবর্ণভূমিকে জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হলেও আগের মতোই ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, জরুরি সেবা, কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের দোকানপাট এর আওতামুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন