মণিরামপুরে আমনের বাম্পার ফলন, খুশি কৃষক

আপডেট: 01:45:10 19/11/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর): চলতি মৌসুমে মণিরামপুরে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ঘরে ধান তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অঞ্চলের কৃষক। প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়। এছাড়া ধানের দামের পাশাপাশি এবার বিচালিরর দামও ভালো। এতে খুশি স্থানীয় কৃষকরা।   
গতবছর যেখানে আমন চাষ করে মণপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা ক্ষতি হয়েছে, এবার বিঘাপ্রতি সেই আমনে তারা লাভ গুণছেন ১৫-২০ হাজার টাকা।
কৃষক বলছেন, দেশে গোখাদ্যের বেশ সংকট। চলতি মৌসুমে আমন চাষ করতে তাদের বিঘাপ্রতি সাত-আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শুধু বিচালি  বিক্রি করে তাদের খরচ উঠে যাচ্ছে। প্রতি কাউন বিচালি বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।  
উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক প্রভাষ মণ্ডল এবার তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। সেই জমির ধান ও বিচালি বিক্রি করে তিনি ৮২ হাজার টাকা পেয়েছেন।
ষোলখাদা গ্রামের কৃষক বদরউদ্দিন মোড়ল বলেন, সাড়ে তিনবিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। মাঠে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে। বিঘাপ্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ করে ১৮-১৯ মণ করে ধান পেয়েছি। গতবছরের তুলনায় এবার লাভ হয়েছে খুব।
পট্টি গ্রামের কৃষক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ১০-১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ ১০ হাজার টাকা। ধান পেয়েছি ১৬-১৭ মণ করে। ধানের দাম ও ফলনে আমরা খুশি।  
মাহমুদকাটি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নূর আলম বাবু বলেন, ১২ কাঠা জমিতে গুটিস্বর্ণ চাষ করেছি। এখনো ধান বাড়ি আনিনি। কাঠায় মণ মণ হবে বলে আশা করি। তাছাড়া বিচালি বিক্রি করা যাবে অন্তত চার হাজার টাকার। বিলের জমি হওয়ায় সার লাগিনি। ১২ কাঠায় খরচ হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা।
টেংরামারী বাজারের আড়তদার ফয়েজ উদ্দিন বলেন, 'এবার আমনের বাজার ভাল। শুরুতে প্রতিমণ ধান কিনেছি ৯৮০ টাকায়। এখন দর এক হাজার টাকা।'
চলতি মৌসুমে উপজেলার রোহিতা, কাশিমনগর, খোদাপাড়, ঝাঁপা, হরিহরনগর, চালুয়াহাটি, মশ্মিমনগর, শ্যামকুড়, ভোজগাতী, খানপুরসহ সব ইউনিয়নে আমন চাষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির ধানের মধ্যে গুটি স্বর্ণ (মোটা) ধানের ফলন সবচেয়ে বেশি।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো। হেক্টরপ্রতি আমনের ফলন পাঁচ থেকে ছয় টন; যা লক্ষ্যমাত্রা ও গত বছরের তুলনায় ভালো। এবার ধানের বাজারও চড়া। এমন দাম পেলে আগামীতে ধানচাষে কৃষক আরো উৎসাহ পাবেন।

আরও পড়ুন