মণিরামপুরে দুই কিশোরী বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

আপডেট: 01:46:58 18/10/2020



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের একটি ঋষিপল্লিতে ভিক্ষুক দম্পতির তরুণী দুই মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, ইত্যা মাধ্যমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন কলোনিপাড়ার আবু দাউদ (৫০) নামে এক কবিরাজ ঝাড়ফুঁকের নাম করে ওই বাড়িতে গিয়ে দুই বোনকে ( ১৭ ও ১৩ বছর) ধর্ষণের চেষ্টা করে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটলেও সন্ধ্যার পর তা প্রকাশ পায়। রাতেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংশার চেষ্টা চলে। পরে শালিসে দুই পক্ষ হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি পুলিককে জানানো হয়।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ দুই মেয়েসহ ভিক্ষুক দম্পতিকে থানায় নিয়ে আসে।
অভিযুক্ত আবু দাউদ যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ঘুনি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। দীর্ঘদিন তিনি ইত্যা গ্রামে শ্বশুর আব্দুল আজিজের বাড়িতে ঘরজামাই থাকেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তার দুই ছেলে বিদেশে থাকেন।
এই ঘটনায় রোববার সকালে থানায় মামলা করেছেন দুই কিশোরীর মা।
তবে ঘটনাটি নিয়ে বাদী ও দুই তরুণী ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।
বাদী বলেন, ‘আমার চার মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। ছোট তিন মেয়ে বাড়ি থাকে। আমার মেজ মেয়ে অসুস্থ। শনিবার সকালে আমরা স্বামী-স্ত্রী ভিক্ষা করতে বের হই। এরপর বেলা ১১টার দিকে দাউদ কবিরাজ আমাদের বাড়ি যায়। তারপর সেজ মেয়ের হাতে দশ টাকা দিয়ে তাকে দোকানে খাবার আনতে পাঠায় কবিরাজ। সেই সুযোগে মেজ মেয়েকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ঘরে নিয়ে মুখ বেঁধে খারাপ কাজ করে সে। সেজ মেয়ে দোকান থেকে ফিরে তার বোনের মুখ বাঁধা দেখে কবিরাজকে বকাঝকা করে। তখন কবিরাজ তারও গায়ে হাত দেয়।’
তবে মেয়ে দুটির মধ্যে বড়জন বলছে, ‘কবিরাজ আমার মুখ বেধে গায়ে হাত দেয়। পরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন আমি তাকে লাথি মেরে ফেলে দিই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিখিল দাস বলেন, ‘বিকেলে ভিক্ষুক দম্পতি বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পারে। এরপর তারা আমার কাছে এসে ঘটনাটি খুলে বলে। আমি সাথে সাথে ঘটনাটি চেয়ারম্যানকে জানাই।’
ঝাড়ফুঁক দিতে দাউদ আগেও ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে জানান মেম্বার নিখিল।
কাশিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যার আগে মেম্বর আমাকে বিষয়টি জানায়। তখন দাউদকে ধরতে আমি দফাদারসহ গ্রামপুলিশদের সেখানে পাঠাই। তারা যেয়ে দাউদকে বাড়ি পায়নি। তার আগেই সে পালিয়েছে। পরে রাত তিনটার দিকে জানতে পারি ভুক্তভোগী পরিবারকে থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।’
তবে দাউদের পরিবারসহ তার বাড়ির আশপাশের নারীদের দাবি, কবিরাজ ভালো মানুষ। তিনি এই কাজ করতে পারেন না।
স্থানীয়রা বলছেন, ভিক্ষুকের মেজ মেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী। আগে তার একটা বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর বাড়ি থাকতে পারেনি। এখন তার পায়ে শিকল লাগিয়ে বাবা-মা ভিক্ষা করতে যান।
মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেছি। কবিরাজ ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছে দুই তরুণীর মা। অভিযুক্ত দাউদ কবিরাজ পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন